আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে, তাৎপর্যপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া। কয়েক দশকে রাজ্যের এবং দেশের রাজনীতির ধারা বদলেছে আমুল। ৩০ কিংবা ৫০ বছর আগে যেভাবে নির্বাচন হত, এখন তা বদলেছে অনেক। এখন রাজনীতি, নির্বাচন কৌশল, সবকিছুর সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গিকভাবে জুড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। কে কী বলছেন, কে কী করছেন, তৃণমূল স্তর থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে সকলের কাছে। তৃণমূল কংগ্রেস আগেই মাঠে নামিয়েছে 'আমি বাংলা ডিজিটাল যোদ্ধা'দের। ভোটের আগে তাঁদের একত্রিত করে যেন বুস্টার ডোজ দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। এই বিধানসভা ভোটে কীভাবে কাজে লাগানো হবে তাঁদের, পয়েন্ট ধরে বাতলে দিলেন তাও।
বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধার কর্মসূচির কথা অভিষেক ঘোষণা করেন অক্টোবর মাসে। তখন মূল লক্ষ্য ছিল, এমন কয়েকজনকে সামনের সারিতে আনা হবে, যাঁরা বাংলার কৃষ্টি সংস্কৃতির ধারক বাহক হিসেবে কাজ করবে। গেরুয়া শিবির যতবার বাংলাকে নানাভাবে হেনস্থা, লাঞ্ছনা করার চেষ্টা করবে, তাঁরা ডিজিটাল ব্যারিকেড হয়ে সেই চক্রান্ত রুখে দেবেন। কয়েকমাসেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছেন ডিজিটাল যোদ্ধারা। দলনেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তাঁদের প্রশস্তি করেছেন, এদিন তাও বলেন অভিষেক। এর পরেই একপ্রকার রণকৌশল সাজিয়ে দেন তাঁদের জন্য।
বলেন, 'আগামী একশ থেকে একশ দশ দিন, আমাদের এক ইঞ্চি জমি ছাড়া চলবে না। এমন মানসিকতা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রচার করতে হবে, লড়াই করতে হবে। একটু ফাঁক-ফোকর থাকলে বিজেপি মানুষকে ভুল বোঝাবে।' সমাজমাধ্যমের ডিজিটাল যোদ্ধারা সঠিক প্রচার মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন, রাজ্যের কথা, সরকারের কথা, পৌঁছে দেবেন মানুষের কাছে সঠিকভাবে। অভিষেক পয়েন্ট ধরে ধরে বোঝান, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া ঠিক কোন পর্যায়ে, কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের কাছে। নেতা নেত্রীদের কাছে।
অভিষেকের মতে, এই জায়গাটিকে কাজে লাগিয়েই দলের বার্তা সরকারের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে হবে সাধারণের মধ্যে। তবে তা একেবারেই নয় আলপটকা, সস্তায় হাততালি পাওয়া বক্তব্য, হতে হবে যুক্তিপূর্ণ। অভিষেকের কথায়, আর্মি, এয়ারফোর্সের কথা। বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসকে তিনভাগে যদি ভাগ করেন, বুথে যাঁরা বসছেন, যাঁরা দেওয়াল লিখছেন, ফেস্টুন লাগাচ্ছেন তাঁরা দলের আর্মি। যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন, তাঁরা এয়ারফোর্স, আমরা যাঁরা পার্লামেন্টে বা হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্টে লড়ছি, মানুষের সঙ্গে থাকছি, তাঁদের ধরে নিন নেভি।'
কীভাবে প্রচার চালাবেন ডিজিটাল যোদ্ধারা? পয়েন্ট ধরে ধরে অভিষেক বললেন-
রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলির এলাকাভিত্তির পরিসংখ্যান বের করে পোস্ট করতে হবে।
২০১৯ থেকে বিজেপির নেতারা, যাঁরা বাংলায় রয়েছেন, তাঁদের আলপটকা মন্তব্য মানুষের কাছে ফের সামনে আনতে হবে।
মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে রাজ্যের কৃষ্টি, সংস্কৃতি।
বললেন, যাঁরা ভাল কাজ করছেন, দলের স্বীকৃতি তাঁরা পাবেন। উদাহরণ দেন দেবাংশুরও।
