আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার ভোররাতে বীরভূম জেলার মহম্মদবাজার থানা এলাকায় নাটকীয় পুলিশি অভিযান। জেলার পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মনির মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলা হয়। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের খবর সামনে আসতেই এলাকায় শুরু হয় শোরগোল। পরে টাকা গোনার জন্য পাঁচটি মেশিন, দুটি প্রিন্টার এবং বড় আকারের দুটি ট্রাঙ্ক বাড়ির ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ বা অন্যান্য সামগ্রীর পরিমাণ সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে স্থানীয় সূত্রে দাবি, বাড়ির একাধিক আলমারি ও ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। সেই কারণেই এতগুলি টাকা গোনার মেশিন আনা হয়েছে। যদিও এই তথ্যের সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, মনির মণ্ডল কয়েক বছর আগেও সরকারি বাস চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি সেই চাকরি ছেড়ে টুলু মণ্ডলের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। অভিযোগ, তিনি টুলু মণ্ডলের পাথর-সংক্রান্ত ব্যবসার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই মহম্মদবাজারের ডেউচা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় তাঁর একটি বিলাসবহুল বাড়ি তৈরি হয়। জীবনযাত্রার এই দ্রুত পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের কৌতূহলী করে তুলছিল।
অভিযানের সময় বাড়ির ভিতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দূর থেকে অভিযান দেখতে ভিড় জমান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং অন্যান্য সামগ্রীর উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে নারাজ তদন্তকারীরা।
স্থানীয় মহলে জোর গুঞ্জন, ওই বাড়ি থেকে ২০ কোটিরও বেশি নগদ টাকা এবং ১০ কেজিরও বেশি সোনা উদ্ধার হয়েছে। তবে এই দাবি এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সংস্থা বা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত উদ্ধার হওয়া অর্থ ও সোনার পরিমাণ জানতে তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা রয়েছে। যাচাই না হওয়া এই তথ্যকে নিশ্চিত বলে ধরা ঠিক হবে না।
উল্লেখ্য, অতীতে বীরভূম জেলায় বেআইনি পাথর ও বালি ব্যবসা নিয়ে টুলু মণ্ডলের নাম একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠলেও সেই অভিযোগের সত্যতা এবং আইনগত অবস্থান তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়। সাম্প্রতিক এই অভিযানে উদ্ধার হওয়া অর্থ বা অন্য সামগ্রীর সঙ্গে তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। এ বিষয়ে পুলিশও কোনও মন্তব্য করেনি।
তদন্তকারী আধিকারিকরা উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের উৎস, সোনার বৈধতা, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজন হলে আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণও পরীক্ষা করা হতে পারে বলে তদন্তকারী সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাইছে না।
এই অভিযানের পর বীরভূম জুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের জল্পনা সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল বাড়িয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সমীচীন নয়।
বর্তমানে মনির মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি ও প্রাথমিক তদন্তের কাজ চলছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃত পরিমাণ, সেগুলির উৎস এবং কার মালিকানাধীন- এসব বিষয় তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। এখন সকলের নজর পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে।
















