আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওড়িশায় পরিযায়ী  শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেলেন মুর্শিদাবাদের এক যুবক। বাংলায় কথা বলার জন্য সম্প্রতি ওড়িশার সম্বলপুরের শান্তিনগর এলাকায় বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার চক বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা নামে বছর একুশের এক যুবককে পিটিয়ে খুন করে কিছু দুষ্কৃতী। জানা গিয়েছে, সেই ঘটনার পর ওড়িশা ছেড়ে পালাতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছেন মুর্শিদাবাদের সুতি থানা এলাকার খিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ শেখ ওরফে মিঠুন নামে বছর ছত্রিশের এক যুবক। 

গত ১৫ দিন ধরে মোশারফের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও খোঁজ না মেলায় উৎকণ্ঠায় রয়েছে গোটা পরিবার। গ্রামবাসীদের একাংশের আশঙ্কা, ওড়িশার সম্বলপুরে যেদিন জুয়েল খুন হয়েছিলেন সেদিনই মিঠুনকে খুন করে থাকতে পারে  অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা। নিখোঁজ মোশারফের পরিবার ইতিমধ্যে গোটা বিষয়টি নিয়ে সম্বলপুর জেলা পুলিশ এবং মুর্শিদাবাদের সুতি থানার দ্বারস্থ হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ সন্তানের বাবা মোশারফ কত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ওড়িশার বিভিন্ন এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে যান।সম্প্রতি ওড়িশার সম্বলপুরে জুয়েল রানার উপর হামলার ঘটনার পর মুর্শিদাবাদের একাধিক পরিযায়ী শ্রমিক সেখান থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেন।

নিখোঁজ মোশারফের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সম্বলপুরের কুসুমতলা এলাকার একটি জায়গা থেকে মোশারফ পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু গত প্রায় ১৫ দিন ধরে তাঁর কোনও খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজ মোশারফের পরিবারের সদস্যরা তাঁর ছবি হাতে করে প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন বাড়ির এই সদস্যর  সন্ধানে। 

নিখোঁজ মোশারফের স্ত্রী শামনুর বিবি বলেন, "ওড়িশায় আমাদের থানা এলাকার এক যুবকের খুনের ঘটনার পর আমার স্বামী সেখান থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল। সম্বলপুর থেকে রওনা হওয়ার আগে আমার সঙ্গে তাঁর শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়। সেই সময় বলেছিল আর কিছুক্ষণের মধ্যে সে স্টেশনে যাচ্ছে। কিন্তু তারপর থেকে আমার স্বামীর আর কোনও খোঁজ মিলছে না।" নিখোঁজ মোশারফের পরিবারের সদস্যরা কোনও দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু সংবাদও এখনও পর্যন্ত পাননি বলে জানা গিয়েছে।

নিখোঁজ ওই যুবকের মা, দিলবাহার বিবি বলেন, "আমার ছেলের সন্ধান না পাওয়ায় খুব উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। আমরা সকলের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি ওড়িশা থেকে আমার ছেলেকে এনে দেওয়ার জন্য।"
 
নিখোঁজ ওই যুবকের এক মামা কেতাবুল শেখ বলেন, "ওড়িশায় গন্ডগোল শুরু হওয়ার পর মোশারফ সেখান থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে ট্রেন ধরতে পেরেছিল কিনা আমরা জানি না। গত ১৫ দিন ধরে তাঁর কোনও খোঁজ না পেয়ে আমরা উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি।"