আজকাল ওয়েবডেস্কঃ মমতার প্রাণ বাঁচিয়ে আজও যেন 'জীবন্ত শহিদ' সিরাজুল। মমতার প্রাণ বাঁচাতে চাকরি হারিয়েছিলেন সিরাজুল। এবার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চাকরি ফেরানোর আর্জি তাঁর। এক সময় বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রাণ বাঁচাতে নিজের ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল সিরাজুল হক মণ্ডল। সেই ঘটনার জেরে চাকরি হারানোর পর তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চাকরি ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে গেলেও আজও ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি তাঁর। এবার রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার ভদ্রডাঙার বাসিন্দা সিরাজুল।

 

সিরাজুলের দাবি, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কলকাতার ব্র্যাবোর্ন রোডে যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানের সময় লাঠিচার্জে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখে তিনি নিজের সার্ভিস বন্দুক ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের দিকে তাক করে লাঠিচার্জ বন্ধ করার আবেদন জানান। তাঁর কথায়, "স্যার, এ অত্যাচার থামান। না হলে গুলি চালাতে বাধ্য হব।" এই ঘটনার পর থেকেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হন সিরাজুল।

 

তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ মানসিক চাপ ও প্রশাসনিক হয়রানির পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরে আদালত ও বিভিন্ন সরকারি দফতরে চাকরি ফিরে পাওয়ার জন্য একাধিকবার আবেদন করলেও আর্থিক সঙ্কটের কারণে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পরও তাঁর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি সিরাজুলের। তিনি জানান, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আশ্বাস পেলেও চাকরি ফেরেনি।

 

বর্তমানে দিনমজুরির কাজ করে কোনওরকমে বৃদ্ধ মা ও বোনকে নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। ভাঙাচোরা টিনের ছাউনির বাড়িতে এখনও যত্ন করে রেখে দিয়েছেন নিজের পুরনো পুলিশ ইউনিফর্ম ও চাকরির নথিপত্র। এবার নতুন সরকারের কাছে তাঁর একটাই আবেদন জীবনের শেষ পর্বে অন্তত চাকরি বা উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।

 

তাঁর কথায়, "যে সিদ্ধান্তের জন্য তিনি চাকরি হারিয়েছিলেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন আজও হয়নি। এখন নতুন সরকারের মানবিক হস্তক্ষেপেই শেষ আশার আলো দেখছেন তিনি।"