আজকাল ওয়েবডেস্ক: আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার পর বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমান বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে ভারত। চলছে নিরাপত্তা পর্যালোচনা করার পরিকল্পনাও। সূত্র মারফৎ এমনই জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার আমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ভেঙে পড়ে। নিহত হন ওই বিমানের ২৪১ জন যাত্রী ও বেশ কয়েকজন ডাক্তারি পড়ুয়া। কেন ভেঙে পড়ল বোয়িং সিরিজের ওই বিমান? তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। এসবের মধ্যেই জানা যায় যে, বোয়িংয়ে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মী বোয়িং বিমানের সুরক্ষা আপোস করা হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু তা কর্ণপাত করেনি কর্তপক্ষ। যা নিয়ে হুলস্থূল পড়ে যায়।
এরপরই কেন্দ্রীয় সরকার বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ বিমানের ফ্লাইট বন্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। আমেরিকান ওয়াইড-বডি বিমানটির নিরাপত্তা পর্যালোচনার জন্য সম্ভবত বোয়িং বিমান আপাতত না চালানো সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, এই বিষয়ে ভারত ও মার্কিন সংস্থাগুলির মধ্যে আলোচনা চলছে। একটি সূত্র জানিয়েছে যে, "দুর্ঘটনার তদন্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে,"
এছাড়াও সূত্র আরও জানিয়েছে যে, বিমান রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি নিয়েও এয়ার ইন্ডিয়া তদন্তের মুখোমুখি হতে পারে।
বিমান বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, প্রাপ্ত দৃশ্য দেখে বোঝা যাচ্ছে যে উভয় ইঞ্জিনে জোরের অভাব এবং পাখির ধাক্কা সম্ভাব্য কারণগুলির মধ্যে একটি হতে পারে। ধ্বংসস্তূপ থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে যে, মৃতদেহগুলি বের করা হচ্ছে এবং আহতদের, যাদের অনেকেই দগ্ধ অবস্থায়, নিকটবর্তী শহরের সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে বোয়িং বলেছে: "আমরা ফ্লাইট ১৭১ সম্পর্কে এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করছি এবং তাদের সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত। যাত্রী, ক্রু, প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াকারী এবং ক্ষতিগ্রস্ত সকলের প্রতি আমাদের সমবেদনা।"
বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দীর্ঘ দূরত্বের, প্রশস্ত দেহের এই বিমান আন্তঃমহাদেশীয় বিমান সংস্থাগুলি দ্বারা ব্যবহৃত হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এই বিমানের নকশার তৈরির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত, টেকসই, হালকা ওজনের কম্পোজিট উপকরণ এবং আরও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী।
বোয়িং বিমানের প্রথম বাণিজ্যিক উড়ান ছিল ২০১১ সালের ২৬শে অক্টোবর। টোকিও নারিতা থেকে হংকংগামী ওই বিমান অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে পরিষেবা শুরু করার পর থেকে ড্রিমলাইনার বৃহস্পতিবারই প্রথম মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ল।
বোয়িং ৭৮৭ সিরিজে বর্তমানে তিনটি মডেল রয়েছে, যার মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-৮ সবচেয়ে ছোট এবং এটিই প্রথম চালু হয়েছিল। এই বিমান ২৪৮ জন যাত্রী বহন করতে পারে। অন্যদিকে, ৭৮৭-৯ বিমানটির রেঞ্জ বেশি, ২৯৬ জন যাত্রী ধারণ করতে পারে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সবচেয়ে ছোট রেঞ্জের তিনটির মধ্যে বৃহত্তম ৭৮৭-১০, ৩৩৬ জন যাত্রী ধারণ করতে পারে।
বোয়িং মডেলটি চালু হওয়ার পর থেকে ২,৫০০টিরও বেশি ৭৮৭ বিক্রি হয়েছে এবং ৪৭টি কিনেছে এয়ার ইন্ডিয়া। তারা ১,১৮৯টি জেট সরবরাহ করেছে কিন্তু অন্যান্য মডেলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সমালোচনার মুখে উৎপাদন বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য কেন্দ্র একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
















