আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপ জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয় লিওনেল স্কালোনির দলের। তবে দেশে ফেরার পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য অপেক্ষা করছিল বীরের সংবর্ধনা। বুয়েনস আইরসের এজেইজায় অবস্থিত মিনিস্ত্রো পিস্তারিনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আর্জেন্টিনা দলের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দেওয়া হয়। সামরিক ব্যান্ডের সুর এবং গ্রেনাডিয়ার রেজিমেন্টের অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং দলের সদস্যদের স্বাগত জানানো হয়। বিমানবন্দরের পাশে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার সমর্থক ভিড় জমিয়ে প্রিয় দলকে অভিনন্দন জানায়।
বিমান অবতরণের পর সেটিকে বিশেষ ফ্লাইট (এফবিও) এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে ফুটবলার এবং কর্মকর্তাদের নিরাপদে নামানো যায়। এরপর লাল গালিচা পেরিয়ে 'মুচাচোস' গানের তালে দলের সদস্যরা অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন। সমর্থকদের হাতে ছিল আর্জেন্টিনার নীল সাদা পতাকা এবং ছাতা। অনেকেই অধিনায়ক লিওনেল মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে উপস্থিত হন। তবে দলের সঙ্গে দেশে ফেরেননি মহাতারকা। এএফএ আগেই জানিয়েছিল, দলের কয়েকজন সদস্য একসঙ্গে ফিরবেন না। সেই তালিকায় ছিলেন মেসিও।
কারণ হিসেবে জানা যায়, আগামী ২৩ জুলাই থেকে শুরু হবে মেজর লিগ সকার (এমএলএস)। ইন্টার মায়ামির প্রথম ম্যাচকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রেই মানসিক এবং শারীরিকভাবে বিশ্রাম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মেসি। যদিও পরে একটি ব্যক্তিগত বিমানে আর্জেন্টিনায় পৌঁছন। চলতি এমএলএস মরশুমে খেলতে তিনি জুলাইয়ের শেষদিকে বা আগস্টের শুরুতে আবার ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশে ফেরা আর্জেন্টিনা দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, হুয়ান মুসো, নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, গনসালো মন্তিয়েল, মার্কোস সেনেসি, ভ্যালেন্তিন বারকো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এক্সেকিয়েল পালাসিওস, জিওভানি লো সেলসো, থিয়াগো আলমাদা, ক্রিস্তিয়ান মেদিনা, নিকোলাস গনসালেস এবং হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফকে খোলা বাসে করে লিওনেল আন্দ্রেস মেসি ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো পথজুড়ে হাজার হাজার সমর্থক জার্সি, পতাকা এবং ঢাক-ঢোল নিয়ে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে দলকে অভিনন্দন জানান। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন শুধু একবার প্রিয় ফুটবলারদের দেখার আশায়। শেষপর্যন্ত ট্রেনিং সেন্টারে পৌঁছনোর পর আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা এবং সেন্টারের কর্মীরা দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
















