আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফেরান তোরেস। ২৬ বছরের ফরোয়ার্ড। লা লিগায় বার্সেলোনার হয়ে খেলেন। রবিবার রাতে স্পেনের পরিত্রাতা তিনিই। নিউইয়র্কের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বার্সা স্ট্রাইকারের ১০৬ মিনিটে করা গোলে চ্যাম্পিয়ন স্পেন। নব্বই মিনিট গোলশূন্যভাবে শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও ফয়সালা হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের থেকে বল পেয়ে গোলার মতো শটে তিকাঠিতে রাখেন। ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। লা রোজাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২০১০ সালের পর প্রথম। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দু'বার ফাইনালে উঠেছে স্পেন, দু'বারই চ্যাম্পিয়ন। ১৬ বছর আগে নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের অতিরিক্ত সময় আন্দ্রে ইনিয়েস্তার গোলে জিতেছিল স্পেন। এবারও সেই এক্সট্রা টাইমেই জয়সূচক গোল। কিন্তু ঠিক কোথায় আর্জেন্টিনাকে টেক্কা দিল স্পেন? দেখে নিন পাঁচ কারণ।

লিওনেল মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা 

মেসিকে পুরো বোতলবন্দি করে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে স্পেন। চলতি বিশ্বকাপে আট গোল করা মেসি হাতেগোনা কয়েকবার বল পান। গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়াতে পারেননি। যার ফলে আর্জেন্টিনার আক্রমণও তৈরি হয়নি। গোল লক্ষ্য করে আর্জেন্টিনার প্রথম সুযোগ ম্যাচের ১১৭ মিনিটে। 

স্পেনের মাঝমাঠে আধিপত্য

গোটা বিশ্বকাপে স্পেনের মাঝমাঠের হাতে ম্যাচের রাশ ছিল। তাঁরাই টেম্পো তোলে। আর্জেন্টিনার প্লেয়ারদের পায়ে বেশিক্ষণ বল রাখতে দেয়নি। নিজেদের মধ্যে বেশি পাস খেলার সুযোগ পায়নি মেসিরা। স্পেনের দ্রুত বল পাস করার প্রবণতা কারোর অজানা নয়। পজেশন হারালেও দ্রুত বল নিজেদের দখলে করে নেয় স্পেনের ফুটবলাররা। 

এনজো ফার্নান্দেজের লালকার্ড

পাউ কুবারসিকে ফাউল করার জন্য, দ্বিতীয় হলুদকার্ড, অর্থাৎ লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। দ্বিতীয়ার্ধের স্টপেজ টাইমের তিন মিনিটে মাঠ ছাড়েন। বিশ্বমঞ্চে একজন প্লেয়ার কম নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন। বিশেষ করে এমন একটা দলের বিরুদ্ধে যারা গোটা বিশ্বকাপে মাত্র এক গোল হজম করেছে।

লিসান্দ্রো মার্টিনেজের চোট ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়

গোটা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার রক্ষণে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর জুটি অনবদ্য ছিল। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে চোটের জন্য মাঠ ছাড়ায় রক্ষণের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। নিকোলাস ওটামেন্ডিকে নামাতে বাধ্য হন লিওনেল স্কালোনি। এবারের বিশ্বকাপে মাত্র একবার প্রথম একাদশে শুরু করেন ৩৮ বছরের ডিফেন্ডার। এতেই দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। 

কোনও আক্রমণ ছিল না আর্জেন্টিনার

ফাইনালের আগে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করেছিল আর্জেন্টিনা। গোল সংখ্যা ছিল ১৯। কিন্তু মেগা ফাইনালে নির্ধারিত নব্বই মিনিট গোল লক্ষ্যে করে কোনও শট নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা। প্রথম শট ১১৭ মিনিটে। পুরো ১২০ মিনিটে মাত্র দুটো শট। তাও সেট পিস থেকে। সেখানে ৯০ মিনিটে স্পেনের গোল লক্ষ্য করে শট ২০টা। তারমধ্যে ১২টা টার্গেটে। স্পেনের 'এক্সপেকটেড গোল' এর হার ১.৯৪ শতাংশ। সেখানে আর্জেন্টিনার ০.১৭ শতাংশ।