আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠল লিওনেল মেসির মাথায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি। সোমবার রাতে ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে করলেন নিজের ১৭তম গোল। পেরিয়ে গেলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজেকে। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাঁ পায়ের শটে বল জালে রাখেন। ম্যাচের ৯ মিনিটে পেনাল্টি মিস করেছিলেন। তারপর আরও দু'বার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। মনে হচ্ছিল দিনটা মেসির নয়। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই শাপমুক্তি। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। হুগো আলমাডার থেকে বল পান মেডিনা। এবার আর ভাগ্য আটকাতে পারেনি এলএমটেনকে। বল তার যথাস্থান খুঁজে নেয়। 

রেকর্ড স্পর্শ করেই শুরু সেলিব্রেশন। রডরিগো ডি পল, লাওতারো মার্টিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজদের সঙ্গে সেলিব্রেশনে মাতেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। গোটা দল মেসিকে ঘিরে ধরে। পেনাল্টি মিসের বোঝা ঝেড়ে ফেলে বিশ্বফুটবল আবার স্বমহিমায় দেখে মেসিকে। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ডালাসের স্টেডিয়াম। সবাই যেন এই একটা মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল। ৩৯তম জন্মদিনের দু'দিন আগেই ইতিহাসে নাম লেখালেন লিও মেসি। 

মার্কিন মুলুকে পা রেখেই ইতিহাস গড়েন। পাঁচ বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে করেন তিন গোল। এক ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপে, রোনাল্ডো নাজারিওকে ছাপিয়ে ১৬তম গোল করে ধরে ফেলেন ক্লোজেকে। এদিন জার্মান স্ট্রাইকারকে পেছনে ফেলে একনম্বরে। চলতি বিশ্বকাপই তাঁর শেষ। ভবিষ্যতে হয়ত মেসিকে ছাপিয়ে যাবেন এমবাপে। নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপে ১৪ গোল করে ফেলেছেন। বয়স মাত্র ২৭। গুরুতর চোট-আঘাত না পেলে, আশা করা যায়, আরও দুটো বিশ্বকাপ খেলবেন। কিন্তু এই মুহূর্তে মেসির মুকুটে আরও একটি পালক যুক্ত হল। যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত ফুটবল বিশ্ব। 

২০০৬ সালে জার্মানিতে প্রথম বিশ্বকাপে অভিষেকের পর টানা ছ'টি বিশ্বকাপে খেলেছেন - ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসি সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারী। এখনও পর্যন্ত ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন, যা জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথুসের ২৫ ম্যাচের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলেছেন (২৩৯৪)। ম্যাচের সেরার পুরস্কারেও এগিয়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। ১২ বার ম্যাচের সেরা হন। সবচেয়ে বেশি সফল ড্রিবলের মালিকও তিনি (১২৫)। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিজের ১৬তম গোল করা মাত্র বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের মধ্যে স্থান পান। গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট সংখ্যাও অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। ৮টির বেশি অ্যাসিস্ট করেছেন। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করার নজির রয়েছে। 

পরপর পাঁচ বিশ্বকাপে গোল পান মেসি। তারমধ্যে শেষ পাঁচ ম্যাচেই গোল। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে গড়লেন আরও একটি রেকর্ড। টানা ছয় বিশ্বকাপের ম্যাচে গোল করার নজির মেসির। ছুঁয়ে ফেললেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেন এবং ব্রাজিলের জেয়ার জিনহোকে। তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে এই মাইলস্টোন ছুঁলেন লিও। মেসির বিশ্বকাপ উত্তরাধিকার শুধু পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং এবং চাপের মুহূর্তে অসাধারণ পারফরম্যান্স তাঁকে অনন্য করেছে। বিশ্বকাপ জয়, রেকর্ড এবং ধারাবাহিকতা - সব মিলিয়ে লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।