আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারের পুরস্কার, অর্থাৎ, গোল্ডেন বল পান অধিনায়ক রডরিগো, ওরফে রডরি। তবে ফিফার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অনেকের মতে, পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স করা লিওনেল মেসিই এই পুরস্কারের প্রকৃত দাবিদার ছিলেন। গোল্ডেন বল স্পেনের নেতার হাতে তুলে দেওয়ার সময়, ক্যামেরায় ধরা হয় মেসিকে। চোখের জল সঙ্গী ছিল মেসির। একা দাঁড়িয়ে তখন অঝোরে কেঁদে চলেছেন। 

বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত পুরস্কারেও আধিপত্য দেখায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। রডরি জেতেন গোল্ডেন বল, গোল্ডেন গ্লাভস ওঠে গোলকিপার উনাই সিমনের হাতে এবং টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ ফুটবলার নির্বাচিত হন কিশোর ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি। দুর্দান্ত বিশ্বকাপ কাটিয়েও রুপোর বল নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় লিওনেল মেসিকে। ৩৯ বছরের আর্জেন্টাইন অধিনায়ক পুরো টুর্নামেন্টে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেন। তাঁর নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পাশাপাশি রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো টুর্নামেন্টে 'প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ' পুরস্কার জিতে নিজের কীর্তিকে আরও সমৃদ্ধ করেন। কিন্তু ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। ৮ গোল করে মেসি পান সিলভার বুট।

সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেয় গোল্ডেন বলের ফলাফল। রডরি যখন পুরস্কার নিতে মঞ্চে ওঠেন, তখন স্টেডিয়ামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভেসে আসে 'মেসি, মেসি' ধ্বনি। অনেক সমর্থকই মনে করেন, আর্জেন্টাইন মহাতারকার পারফরম্যান্সই ছিল টুর্নামেন্টের সেরা। রডরি এবং মেসি-দু'জনের পক্ষেই জোরালো যুক্তি রয়েছে। মেসি ছিলেন আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা। তাঁর ৮ গোল এবং ৪ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি একাধিক ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স দলকে ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

অন্যদিকে রডরির অবদান সংখ্যার বিচারে হয়ত ততটা চোখে পড়ার মতো নয়। কিন্তু স্পেনের পুরো খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেছেন তিনিই। আটটি ম্যাচেই প্রথম একাদশে ছিলেন স্প্যানিশ অধিনায়ক। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তবে বিতর্কের অন্যতম কারণ হল, পুরো টুর্নামেন্টে রডরি মাত্র একবার প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। এমনকি ফাইনালেও অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলের আগেই তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। অন্যদিকে মেসি পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই ছিলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক অস্ত্র।

শেষপর্যন্ত ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ স্পেনের খেতাবজয়ী অধিনায়ককে সেরা ফুটবলার বাছেন। ফলে গোল্ডেন বল তাঁর হাতেই উঠেছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়ত আরও দীর্ঘদিন চলবে। তবে এতে আবারও সামনে এল ফুটবলের সেই চিরন্তন প্রশ্ন-সেরা ফুটবলার কি শুধুই বেশি গোল করে, নাকি তিনি পুরো দলের খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করেন? গোল্ডেন বল নিয়ে মতভেদ থাকলেও স্পেনের সামগ্রিক আধিপত্য নিয়ে তেমন কোনও বিতর্ক নেই। চারটি বড় ব্যক্তিগত পুরস্কারের মধ্যে তিনটিই জিতেছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের ফুটবলাররা। অন্যদিকে গোল্ডেন বল হাতছাড়া হলেও রুপোর বল, রুপোর বুট, পাঁচটি প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার এবং আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করেই রাখবে।