ফ্রান্স - ৪ (ডেম্বেলে-হ্যাটট্রিক, ডুয়ে) 

নরওয়ে - ১ (আজগার্ড)

আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন মুলুকে ফের ফরাসি বিপ্লব। বিশ্বমঞ্চে লড়াই ছিল কিলিয়ান এমবাপে বনাম আরলিং হালান্ডের মধ্যে। কে ভেবেছিল এই ম্যাচে যাবতীয় প্রচারের আলো কেড়ে নেবেন তৃতীয় এক ব্যক্তি! অনবদ্য পারফরমেন্স। বিশ্বমঞ্চে বিশ্বমানের হ্যাটট্রিক উসমান ডেম্বেলের। তিনটে গোলই দুর্দান্ত। শুক্রবার রাতে নরওয়েকে ৪-১ গোল হারাল ফ্রান্স। নরওয়ের কোচ হালান্ডকে প্রথম একাদশে না রাখায়, ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচে শিরোনামে ছিল মাত্র একটিই নাম। এমবাপে। লিও মেসির থেকে এক গোলে পিছিয়ে। প্রথম দুই ম্যাচে স্কোরশিটে নাম তোলেন। শুক্র রাতেই কি আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে ছুঁয়ে ফেলবেন ফরাসি তারকা? এই প্রশ্নই ঘুরছিল। কিন্তু এমবাপের মঞ্চে বাজিমাত ডেম্বেলের। মাত্র ৩২ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক। এর আগে পরপর বিশ্বকাপের দুই ম্যাচে গোল করেননি। কিন্তু এদিন যা ছুঁয়েছেন, তাই সোনা হয়ে গিয়েছে। তিন তিনটে চোখ ধাঁধানো গোল। তাও আবার তিন-চারজনকে কাটিয়ে। ফ্রান্সের জার্সিতে ডেম্বেলের সেরা পারফরম্যান্স।

এদিন এমবাপেকে সামনে রেখে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজান ফ্রান্সের সহকারী কোচ গাই স্টিফান। মায়ের শেষকৃত্যে সামিল হতে দেশে ফিরে গিয়েছেন দিদিয়ের দেশঁ। তাই এদিন এমবাপেদের দায়িত্বে ছিলেন তাঁর ডেপুটি। তবে হেড কোচের অনুপস্থিতিতে খেলায় কোনও পরিবর্তন নেই ফ্রান্সের। এখনও পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি দেশ বিশ্বকাপের সব ম্যাচ জিতেছে। তারমধ্যে রয়েছে ফ্রান্স। এদিনও চ্যাম্পিয়নদের মতো খেলে লে ব্লুজরা। তিন ম্যাচ জিতে গ্রুপের একনম্বরে থেকে নকআউটে পা রাখে। এদিন ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ পান এমবাপে। কিন্তু ২২ সেকেন্ডে তার শট ক্রসপিসে লাগে। গোল করতে না পারলেও ম্যাচে অবদান রাখেন। ডেম্বেলের দুটো গোলেই তাঁরই অ্যাসিস্ট। 

ম্যাচের ৭ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন ডেম্বেলে। এমবাপের থ্রু ধরে ডানদিকে বল পান পিএসজির ফরোয়ার্ড। বাঁ দিকে কাট করে ঢুকে নরওয়ের দু'জন ডিফেন্ডার এবং বিপক্ষের গোলকিপারকে কাটিয়ে ডান পায়ের শটে গোলে রাখেন। দ্বিতীয় গোল আর সুন্দর। এবারও সেই এমবাপে ডেম্বেলে কম্বিনেশনে। মাঝমাঠ থেকে বল দেন। রিসিভ করে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে গোল। কিন্তু ফ্রান্স জোড়া গোলে এগিয়ে যাওয়ার এক মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরায় নরওয়ে। ম্যাচের ২১ মিনিটে গড়ানো শটে ২-১ করেন আজগার্ড। অবশ্য তাতে দমাতে পারেনি ফরাসিদের অদম্য মনোভাব। আক্রমণ চালিয়ে যায় ফ্রান্স। ম্যাচের ৩২ মিনিটে ডেম্বেলের হ্যাটট্রিক। তৃতীয় গোলও অনবদ্য। বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে।

জাস্ট ফনটেন এবং এমবাপের পর তৃতীয় ফরাসি প্লেয়ার হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন ডেম্বেলে। ম্যাচের স্টপেজ টাইমে হেডে গোল করে ৪-১ করেন ডুয়ে। হালান্ডকে না নামলেও, ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু ৫০ মিনিটে স্ট্র্যান্ড লারসেনের পেনাল্টি বাঁচান ফরাসি গোলকিপার মাইগান। ব্যবধান বাড়াতে পারত ফরাসিরাও। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে গোল করার পর এদিন আটকে যান এমবাপে। তবে দল আটকায়নি। আরও একবার সুন্দর এবং দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার ফরাসিদের। এমবাপে, ডেম্বেলে, ওলিসেরা যেভাবে খেলছেন, বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার গতবারের রানার্সরা।