আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপে এবার নতুন ইতিহাস। এই প্রথম বাজারে আনা হচ্ছে পেপারলেস টিকিট। অর্থাৎ, অনলাইনে টিকিট কাটার কোনও ঝামেলাই রইল না। এতদিন পর্যন্ত অনলাইনে টিকিট কাটলেও, সেই টিকিট যুবভারতীর বক্স অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হত। কিন্তু এবার টিকিট স্ট্যাম্পিংয়ের কোনও বিষয় নেই। যার ফলে অনলাইনে টিকিট কেটে সরাসরি মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন দর্শকরা। যা সাধারণত বিশ্বের স্টেডিয়ামগুলোতে হয়ে থাকে। বুধবার ডুরান্ড কাপের আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনে এসে জানান রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। আসন্ন ডুরান্ড কাপে রাজ্য সরকারের ক্রীড়াদপ্তরের এটা বড় পদক্ষেপ।
ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, 'আমি শুনেছি প্রতিবার টিকিটিং নিয়ে সমস্যা হয়। তাই দায়িত্ব নেওয়ার পরের দিনই আমি ডুরান্ড কমিটির সঙ্গে বৈঠক করি। এবার পেপারলেস টিকিট হচ্ছে। আর স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে হবে না। টিকিট নিয়ে সরাসরি খেলা দেখতে চলে যেতে পারবেন। আর স্ট্যাম্পিং করাতে হবে না।' প্রত্যেকবার আর্মির থেকে কম টিকিট পাওয়ার অভিযোগ জানায় মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল। যার ফলে বিপুল সংখ্যক সদস্য, সমর্থকরা ডার্বি দেখা দেখা বঞ্চিত হয়। গত দুই বছর ধরে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্লাব প্রতি ৫০০০ টিকিট দেওয়া হয়। এবার সেই সংখ্যা ১০০ বেড়েছে। অর্থাৎ, ইস্ট-মোহনকে ৫১০০ করে টিকিট দেওয়া হবে।
শনিবার ডার্বি দিয়ে ডুরান্ড কাপের সূচনা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওপেনিং ম্যাচ, দুটো কোয়ার্টার ফাইনাল, একটা সেমিফাইনাল, ফাইনাল এবং গ্রুপের ম্যাচ মিলিয়ে মোট ১৬টি ম্যাচ কলকাতায় হবে। যুবভারতী এবং কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে খেলাগুলো হবে। ডুরান্ড কাপের পুরস্কারমূল্যে কোনও পরিবর্তন নেই। টুর্নামেন্টের ১৩৫ তম সংস্করণে মোট প্রাইজ মানি ৩ কোটি টাকা। এছাড়াও দেওয়া হবে তিনটে এসইউভি গাড়ি। এছাড়াও এবার পুরস্কার বিভাগে থাকছে অভিনবত্ব। শুরু হবে স্পট প্রাইজ দেওয়া। প্রত্যেক ভেন্যুতে একজন স্থানীয় ফুটবলারকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে। এটা এবছর থেকে নতুন চালু হবে।
প্রত্যেকবার জল সমস্যা দেখা যায় যুবভারতীতে। পর্যাপ্ত জল না থাকায় সমস্যায় পড়ে দর্শকরা। এছাড়াও ম্যাচ শেষে বাস, মেট্রো পেতে সমস্যা হয়। ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, এবার যথাযথ জলের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পরিবহন দপ্তরের সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন তিনি। ম্যাচের পর বাড়তি বাসের আয়োজন থাকবে। ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, 'পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। আমি নিজে পানীয় জল আগে টেস্ট করব। যারা আছে সবাই একই জল পান করবে। আমরা যে জল খাবো, সবাই তাই খাবে। আমি পরিবহন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। যাতে আলাদা করে বাড়তি বাস চলে।'
সবে বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। কিন্তু বাংলায় 'ফুটবল ফিভার' শেষ হয়ে যাক চান না ক্রীড়ামন্ত্রী। তাই সবাইকে স্টেডিয়ামে আসার আহ্বান জানান।

ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, 'রসগোল্লার পর কলকাতার লোক ফুটবল পছন্দ করে। এটাই সেরা সময় ডুরান্ড শুরুর জন্য। বিশ্বকাপের পর ফুটবল জ্বর এখনও শেষ হয়নি। কলকাতায় উদ্বোধন এবং ফাইনাল হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের অধীনে সেরা ডুরান্ড কাপ হতে চলেছে। ডুরান্ডের ইতিহাসে সেরা টুর্নামেন্ট হবে। আমরা ১৬টা ম্যাচ পাচ্ছি। যুবভারতী এবং কিশোর ভারতীতে খেলাগুলো হবে। আমরা বিশ্বকাপের জন্য গলা ফাটিয়েছি। রাত জেগে আর্জেন্টিনা, স্পেন, ব্রাজিল, পর্তুগালের সমর্থন করেছি। এবার সময় এসেছে ভারতীয় ফুটবলের জন্য গলা ফাটানোর। এবার আমাদের ফুটবলারদের উদ্বুদ্ধ করার সময়। ফুটবলারদের ভর্তি স্টেডিয়াম উপহার দিই আমরা।' ভবিষ্যতে দার্জিলিং, গ্যাংটক, তাওয়াংয়েও ডুরান্ড কাপের ম্যাচ আয়োজনের ভাবনায় সেনাবাহিনী। পরের বার ছোট করে মেয়েদের টুর্নামেন্ট করারও চিন্তাভাবনা চলছে। বুধবার ডুরান্ড কাপের আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ছাড়াও ছিলেন যুবকল্যাণ এবং ক্রীড়া দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব রাজেশ পাণ্ডে, ডুরান্ড কাপের চেয়ারম্যান গম্ভীর সিং এবং ভাইস চেয়ারম্যান দীনেশ কুমার সিং।
















