আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তান ক্রিকেট দলে ফের অস্থিরতা। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা ফিজিও ক্লিফ ডিকনকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলের একাধিক ক্রিকেটার, বিশেষ করে পেসাররা। 

এমনকি তাঁরা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আর্জিও জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজের জন্য পাকিস্তানের সাপোর্ট স্টাফে আর রাখা হয়নি ডিকনকে। তাঁর জায়গায় দলের নতুন ফিজিও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে ইফতিখার আহমেদকে। টেলিকম এশিয়ার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তান দলের একাধিক ক্রিকেটার অসন্তুষ্ট।

যদিও পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ডিকনকে সরানোর কারণ জানায়নি, তবে রিপোর্টে বোর্ডের অন্দরমহলের সূত্রের দাবি, সদ্য নিযুক্ত ডিরেক্টর অফ স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ মেডিসিন জাভেদ মুঘল দলের বারবার চোট সমস্যায় বিরক্ত ছিলেন এবং তার দায় ডিকনের উপরই চাপিয়েছেন।

সূত্রের দাবি, ''জাভেদ মুঘলের নির্দেশেই ডিকনকে বিদায় নিতে বলা হয়। দ্বিতীয় টেস্টের পর মাঠেই তাঁর জন্য বিদায়ী অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। সেখানে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ডিকন, কাঁদতেও দেখা যায় তাঁকে। বিদায়ের সময়ে বেশিরভাগ ক্রিকেটারকে জড়িয়ে ধরেন তিনি।''

তবে পাকিস্তান দলের অনেক ক্রিকেটারই এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি রিহ্যাবের দায়িত্ব ফিজিওর নয়, বরং সেটা অ্যাকাডেমির অধীনে হওয়া উচিত।

এক ক্রিকেটারের কথায়, “ডিকনের কাজ অসাধারণ ছিল। বোর্ডের অনেকেই বোঝেন না যে কোনও ফিজিওর কাজ রিহ্যাব সামলানো নয়। তিনি ছোটখাটো চোট সামলাতেন এবং সেটা খুব দক্ষতার সঙ্গে করতেন। রিহ্যাব হয় অ্যাকাডেমিতে, যেখানে প্রয়োজনীয় সব সুবিধা রয়েছে।''

আরও এক ক্রিকেটার ডিকনের ফিটনেস বোঝার ক্ষমতার প্রশংসা করে বলেন, ''ও দূর থেকে দেখেই বুঝে নিতে পারত কোনও ক্রিকেটারের কী ধরনের ফিটনেস সমস্যা হচ্ছে। ওর কাজ সত্যিই দারুণ ছিল। তাঁকে সরিয়ে দিলে দলের কোনও লাভ হবে না।''

এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে পাকিস্তান দলের ব্যাকরুম স্টাফের স্থায়িত্ব নিয়ে। গত কয়েক বছরে একাধিক বিদেশি কোচ ও সাপোর্ট স্টাফের হঠাৎ বিদায় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এর আগে পাকিস্তানের বোলিং কোচ শন টেট ও মর্নি মর্কেল, ব্যাটিং পারমর্শদাতা অ্যান্ড্রু পুটিক-সহ একাধিক বিদেশি সদস্য মাঝপথেই দায়িত্ব ছেড়েছেন। এমনকি ২০২৪ সালে বড় চুক্তিতে নিয়োগ হওয়া জেসন গিলেসপি ও গ্যারি কার্স্টেনের মেয়াদও খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক ও প্রাক্তন পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা আগেই সতর্ক করেছিলেন, বারবার কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ বদলের কারণে ভবিষ্যতে অভিজ্ঞ বিদেশি পেশাদারদের পাকিস্তান ক্রিকেটে আনা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যান্ড্রু পুটিকের মতো ক্লিফ ডিকনেরও শীঘ্রই ঠিকানা হতে পারে আফগানিস্তান ক্রিকেট দল।