আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের টেস্ট দলে ডাক পেলেন সারাংশ জৈন। চোটের কারণে ওয়াশিংটন সুন্দর ছিটকে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কা সফরের দলে জায়গা পেয়েছেন মধ্যপ্রদেশের অলরাউন্ডার। গল টেস্টে ভারতের প্রয়োজন হতে পারে একজন ডান হাতি অফ স্পিনারের, আর সেই কারণেই ৩৩ বছর বয়সি সারাংশের টেস্ট অভিষেকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর অবশেষে জাতীয় দলের দরজা খুলেছে সারাংশের জন্য। নির্বাচক কমিটির বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে ঘরোয়া ক্রিকেটের সফল ক্রিকেটারদের সুযোগ না দেওয়ার। তবে এবার জম্মু ও কাশ্মীরের পেসার আকিব নাবির পরিবর্তে মধ্যপ্রদেশের এই অলরাউন্ডারের উপর আস্থা রেখেছেন নির্বাচকরা।
সারাংশের বাবা সুবোধ জৈন মধ্যপ্রদেশের হয়ে ৯টি রঞ্জি ট্রফি ম্যাচ খেলেছিলেন। বাবার পথ অনুসরণ করেই ক্রিকেটে আসেন সারাংশ। ইন্দোরের বিজয় ক্লাবে বাবার সঙ্গে অনুশীলন করতেন তিনি। ২০১৪-১৫ মরশুমে মধ্যপ্রদেশের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় তাঁর।
২০২১-২২ মরশুমে মধ্যপ্রদেশের প্রথম রঞ্জি ট্রফি জয়ের অন্যতম সদস্য ছিলেন সারাংশ। যদিও তিনি খেলেছিলেন কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে। কিন্তু বড় মঞ্চে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দেন তিনি। তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্ধশতরান।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও পেয়েছেন সারাংশ। বিসিসিআইয়ের নমন অ্যাওয়ার্ডসে তৎকালীন ভারতীয় দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের হাত থেকে তিনি পেয়েছিলেন লালা অমরনাথ পুরস্কার।
২০২৫-২৬ মরশুমের দলীপ ট্রফিতে সারাংশ ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। সেন্ট্রাল জোনের হয়ে তিনি নিয়েছিলেন ১৬টি উইকেট, যা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। তাঁর থেকে ছ'টি উইকেট পিছনে ছিলেন গুরজপনীত সিং ও হর্ষ দুবে।
শুধু বল হাতে নয়, ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। তিনটি ইনিংসে ১৩৬ রান করেন সারাংশ, যার মধ্যে ছিল দুটি অর্ধশতরান। তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য তিনি নির্বাচিত হন ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’।
এরপর ইরানি কাপেও নজর কাড়েন তিনি। বিদর্ভের বিরুদ্ধে হারলেও চারটি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৩৯ রান করেন এই অলরাউন্ডার।
শ্রীলঙ্কা সফরে ভারত ‘এ’-র হয়ে প্রথমদিকে খুব বেশি সাফল্য পাননি সারাংশ। প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্টে ২৫ ওভার বল করে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যাট হাতেও বড় রান করতে পারেননি।
তবে দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল টেস্টে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট-সহ মোট ছয়টি উইকেট নেন সারাংশ। এরপর ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ৭০ রানের ইনিংস খেলেন ১৪০ বলে। লোয়ার অর্ডারের সঙ্গে লড়াই করে ভারত ‘এ’-কে ৫৪৩ রানের বড় স্কোরে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১০ উইকেটে জিতে নেয় ভারত ‘এ’।
সারাংশের ক্রিকেট যাত্রার পেছনে রয়েছে আবেগঘন এক গল্প। একই বছরে তিনি মধ্যপ্রদেশের ক্লাব দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিলেন এবং পাঁচ ম্যাচের সিরিজে দল ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।
সেই সময় তাঁর পরিবারের কাছ থেকে বাবার অসুস্থতার খবর গোপন রাখা হয়েছিল। পরে জানা যায়, সুবোধ জৈন মুখের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং অস্ত্রোপচারের পর তিনি কথা বলার ক্ষমতা হারান। ছেলের জন্য তিনি একটি ছোট্ট নোট লিখে দিয়েছিলেন, যা এখনও নিজের কাছে যত্ন করে রেখে দিয়েছেন সারাংশ।
















