মোহনবাগান - ১ (সাহাল)

ইস্টবেঙ্গল - ০ 

সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: ইস্টবেঙ্গল ফিরল ইস্টবেঙ্গলে। আইএসএল জয়ের পর মরশুমের উদ্বোধনী ডার্বিতে হার। ভাঙল ময়দানি মিথ। শিবির বদলাতেই বদলে গেল ভাগ্য। প্রথম ডার্বি হার আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের। অন্যদিকে অভিষেকেই বাজিমাত পানাগিওটিস দিলমপেরিসের। শনিবার মরশুমের প্রথম ডার্বি ১-০ গোলে জিতল মোহনবাগান। একমাত্র গোল সাহাল আব্দুল সামাদের। ম্যাচ শেষে কলকাতা যেন এক টুকরো আমেরিকা। ফিরল বিশ্বকাপের স্মৃতি। গ্যালারিতে 'ভাইকিং সেলিব্রেশন' মোহনবাগানের। বিশাল কাইত যেন ভোজিনহা। একাই দলের পতন রোখেন। অন্তত তিন থেকে চারটে নিশ্চিত গোল বাঁচান। শেষদিকে সাঁড়াশি আক্রমণ ইস্টবেঙ্গলের। একের পর এক শট রশিদ, ডিকাদের। কিন্তু মিসের বহর। ড্র হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু ছিল না। 

এদিন ম্যাচের ৫৩ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন আব্দুল সামাদ। ডানদিক থেকে কিয়ান নাসিরির মাইনাস মনবীরের পা ছুঁয়ে পান সাহাল। ডানপায়ের আলতো শটে গোলে ঠেলেন মোহনবাগানের তারকা মিডিও। দর্শক রোহিত কুমার এবং রোহিত দানু। দুই প্রধানেই নতুন কোচ। দলে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন। তারওপর মাত্র চার দিনের প্রস্তুতি। দুই দলই অপ্রস্তুত। তাই খুব উন্নতমানের ম্যাচের আশা করা যায়নি। হয়ওনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধ যথেষ্ট ঘটনাবহুল। পজিশন বদল করে খেলান মোহনবাগানের নতুন হেড কোচ। রক্ষণে রাখেন রাহুল বেকে এবং মেহতাব সিংকে। দুই ব্যাক শুভাশিস বসু এবং অভিষেক সিং। তবে প্রথমার্ধে তেমন কোনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি সবুজ মেরুন রক্ষণকে। ম্যাড়ম্যাড়ে ৪৫ মিনিটে গোল না হলেও, আধিপত্য ছিল মোহনবাগানের। মাঝমাঠ অনেক বেশি সংগঠিত। মূলত ডানদিক থেকে আক্রমণে উঠছিল প্যানোসের দল। কিয়ান-সাহাল কম্বিনেশনে বেশ কয়েকটা সুযোগ তৈরি হয়। কয়েকবার বিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েন দু'জনেই। কিন্ত গোলমুখ খুলতে পারেনি। 

প্রথম সুযোগ ১০ মিনিটের মাথায়। কিয়ানের থেকে সাহালের শট সরাসরি তালুবন্দি করেন প্রভসুখন। কয়েক মিনিট পরই বিপরীত পরিস্থিতি। এবার সাহালের থেকে কিয়ানের হেড যায় লাল হলুদ কিপারের হাতে। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের একটাই সুযোগ। রোহিত দানুর থেকে ডেভিডের শট বাইরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরে ইস্টবেঙ্গল। ৫৩ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর জোড়া পরিবর্তন। দুই রোহিতকে তুলে বিষ্ণু এবং রশিদকে নামান হাবাস। তাতেই ম্যাচে ফেরে লাল হলুদ। কিন্তু হাবাসের এই পরিবর্তন শেষপর্যন্ত কাজে লাগেনি। শেষ কোয়ার্টারে একাধিক মিস রশিদ, ডিকাদের। 

বিরতির পর বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করেন বাগান কোচও। নামান দীপক টাংরি এবং ড্রাজিচকে। কিন্তু ততক্ষণে ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ ধরে নেওয়ায় সুবিধা করতে পারেনি সার্বিয়ান। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে ডেভিডের জায়গায় রামিরেজকে নামান হাবাস। অভিষেক ম্যাচেই স্কোরশিটে নাম লেখাতে পারতেন। কিন্তু রামিরেজের শট পোস্ট লাগে। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট ইস্টবেঙ্গলের। ডিকার শট বাঁচান বিশাল। সামনে একা বাগানের কিপারকে পেয়েও ফিরতি বল বক্সের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন রশিদ। বিশালের জন্য এই যাত্রায় বেঁচে যায় মোহনবাগান। কিন্তু শেষদিকে প্যানোসের পুরোপুরি রক্ষণাত্মক ফুটবল বিপদ ডেকে আনতে পারত।