সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: যন্তর মন্তরে ছাত্রছাত্রীদের লাঠিচার্জে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের ইনস্টগ্রাম হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিলেন। ঘটনাক্রমে সেই পোস্টের ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সরে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছাত্রছাত্রীদের এই সাফল্যের দিনে কি তাঁদের জয়সূচক গোল উৎসর্গ করছেন? এদিন সেটা জানা যায়নি। ডুরান্ড কাপের প্রোটোকলের গেরোয় আটকে যায় এই প্রশ্ন। প্রসঙ্গ উঠতেই থামিয়ে দেওয়া হয়। তবে হয়ত সাহালের ইনস্টাগ্রামে নজর রাখলে, শীঘ্রই এর উত্তর মিলবে। তবে আপাতত মোহনবাগানের একমাত্র গোলদাতা জানিয়ে দেন, গোল তাঁর স্ত্রীকে উৎসর্গ করছেন। সাহাল বলেন, 'এই গোল আমার স্ত্রীকে উৎসর্গ করছি। ও তিন বছর ধরে আমার সঙ্গে এখানে আছে। সবসময় আমার পাশে থেকেছে, সমর্থন করেছে। তাই এই গোল ওকেই উৎসর্গ করছি।'
নতুন মরশুমে বদলেছে হেয়ারস্টাইল। তাতে বয়স যেন আরও কমে গিয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বদলের পরই ডার্বিতে প্রথম গোল এসেছে। হেয়ারস্টাইলই কি বদলে দিল ভাগ্য? হাসিমুখে সাহালের উত্তর, 'আমি জানি না। যা যখন মনে হয়, সেটাই রাখি।' ডার্বিতে পেনাল্টি থেকে কি বঞ্চিত হয়েছে মোহনবাগান? এর কোনও সদত্তর দেননি বাগানের তারকা। সাহাল বলেন, 'পেনাল্টির বিষয়ে আমি ঠিক বলতে পারব না। আমার মনে হয়েছিল হ্যান্ডবল হয়েছে। রেফারি সেটা মনে করেনি। আমাদের কিছু করার নেই।'
আগের মরশুমের শুরতেই জোড়া ডার্বিতে হার। এবার মরশুমের প্রথম ডার্বিতেই জয়। তাও আবার নতুন কোচের অধীনে। বাগানের প্রতিভাবান মিডিও জানান, এটা দলের সাফল্য। টিমগেমের জয়। পাশাপাশি জানান, কোচের নতুন দর্শন অনুযায়ী এগোতে চান তাঁরা। সাহাল বলেন, 'ডার্বি জিতে দারুণ লাগছে। কোচ আমাদের বলেছিলেন, প্রত্যেক ম্যাচই ডার্বি। আমাদের মধ্যে কোচ এই মানসিকতা ঢুকিয়ে দিতে চাইছে। আমাদের লড়াই করে জিততে হবে। আমরা দল হিসেবে খেলেছি। গোলটাও দলের। আমরা কোচের দর্শন মেনে খেলব।' জিতলেও নিজের এবং দলের খেলায় সন্তুষ্ট নন। আরও উন্নতি করতে চান বাগানের তারকা। এবার হাতে সময় ছিল না। ভবিষ্যতে আরও ভাল খেলার অঙ্গীকার সাহালের।
এদিকে মোহনবাগানের কোচ হিসেবে প্রথম ডার্বি জিতে খুশি পানাগিওটিস দিলমপেরিস। তবে দলের খেলায় সন্তুষ্ট নন। মেনে নেন ৬৫ মিনিটের পরে তাঁর দল খেলতে পারেনি। দানি রামিরেজ নামার পর বাগানের রক্ষণ যে নড়বড়ে হয়ে যায়, স্বীকার করে নেন। জানান, আগাগোড়া পজেশনাল এবং প্রেসিং ফুটবল খেলে ইস্টবেঙ্গলকে খেলতে না দেওয়া তাঁদের পরিকল্পনা ছিল। প্রথমার্ধে তাতে কার্যকরী হলেও, দ্বিতীয়ার্ধে হিতে বিপরীত হয়। তবে প্যানোস জানান, মরশুমের শুরুতে ডার্বি জয় দলকে উদ্বুদ্ধ করবে। অন্যদিকে নব্বই মিনিট স্টেডিয়ামে বসে ডার্বি দেখেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তবে দু'বার গ্যালারি বদলান। প্রথমে ছিলেন মোহনবাগানের দিকে। পরে ইস্টবেঙ্গলের দিকে। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় এই কথা নিজেই জানান ক্রীড়ামন্ত্রী। কিন্তু দিক বদলেও প্রিয় দলের ভাগ্য ফেরাতে পারেননি।
















