আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় দলের সহকারী কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন দায়িত্বে ফিরলেন রায়ান টেন দুশখ্যাতে। প্রাক্তন নেদারল্যান্ডস অলরাউন্ডারকে নাইট রাইডার্স পরিবারে নতুন ভূমিকায় নিয়োগ করল নাইট রাইডার্স স্পোর্টস। তাঁকে দেওয়া হয়েছে হেড অফ ক্রিকেট স্ট্র্যাটেজি-র দায়িত্ব।

নাইট রাইডার্সের তরফ থেকে জানানো হয়, দুশখ্যাতে এখন থেকে সংস্থার বিশ্বজুড়ে থাকা সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্রিকেট কর্মকাণ্ডের  কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। পাশাপাশি তিনটি বিদেশি দলের সঙ্গে তিনি আবার কোচিং দায়িত্বও সামলাবেন।

এই নিয়োগের একদিন আগেই ভারতীয় দলের সহকারী কোচের পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর খবর সামনে আসে। জানা যায়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তাঁকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ব্যক্তিগত কারণে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি ৪৫ বছর বয়সী দুশখ্যাতে। 

নাইট রাইডার্সের সিইও ভেঙ্কি মাইসোর বলেন, “টেন্ডোকে আবার নাইট রাইডার্স পরিবারে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং আমাদের দর্শনের প্রতি তাঁর গভীর বোঝাপড়া তাঁকে এই দায়িত্বের জন্য আদর্শ করে তুলেছে।”

নতুন দায়িত্ব নিয়ে দুশখ্যাতে বলেন, “নাইট রাইডার্সে এই ভূমিকায় ফিরে আসতে পেরে আমি খুবই উত্তেজিত। বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচিং ও অ্যানালিটিক্স দলের সঙ্গে কাজ করে স্কাউটিং, খেলোয়াড় উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রিকেট পরিকল্পনা শক্তিশালী করার এটি একটি বিশেষ সুযোগ।”

নাইট রাইডার্সের সঙ্গে দুশখ্যাতের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০১১ সালে খেলোয়াড় হিসেবে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ২০১২ ও ২০১৪ সালে কেকেআরের আইপিএল খেতাব জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অবসরের পর ২০২২ সালে ফের কোচিং স্টাফ হিসেবে দলে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বাধীন সাপোর্ট স্টাফের অংশ হিসেবে কেকেআরের তৃতীয় আইপিএল ট্রফি জয়ে অবদান রাখেন।    


২০২৪ সালের জুলাইয়ে গৌতম গম্ভীর ভারতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার পর দুশখ্যাতে জাতীয় দলে যোগ দেন। বোলিং কোচ মর্নি মর্কেলের সঙ্গে তিনি ব্যাটিং প্রস্তুতি, ফিল্ডিং সেশন এবং ম্যাচ কৌশল তৈরিতে কাজ করেন।

তাঁর সময়কালে ভারত ২০২৫ এশিয়া কাপ জেতে এবং ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও ঘরে তোলে। যদিও টেস্ট ক্রিকেটে দলের পারফরম্যান্স ছিল ওঠানামার মধ্যে।

সূত্রের খবর, বিসিসিআই তাঁকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত রেখে দিতে চেয়েছিল। তবে দীর্ঘ দুই বছরের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির পর পরিবারকে বেশি সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দুশখ্যাতে।