আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঐতিহাসিক সাফল্যের পর জম্মু ও কাশ্মীর দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। রঞ্জি ট্রফি জয়ের পর খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফেদের জন্য দু’কোটি টাকা নগদ পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন তিনি।
ঘরের মাঠে কর্ণাটককে পরাজিত করে জম্মু ও কাশ্মীর যে দাপুটে জয় পেয়েছে, তার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এক পোস্টে বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। এই জয় গোটা রাজ্যকে গর্বিত ও অনুপ্রাণিত করেছে।
পাশাপাশি, এই রঞ্জি ট্রফির জয়ের ফলে নগদ পুরস্কারের পাশাপাশি প্রত্যেককে সরকারি চাকরিও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আবদুল্লা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, 'জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটাররাও ভারতীয় দলের জার্সি পরার ক্ষমতা রাখে এটা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল। আমাদের দলের ছেলেরা ঘরোয়া ক্রিকেটের শীর্ষস্থানের দখল নিয়েছে। এবার আশা করি ওরা জাতীয় দলেও সুযোগ পাবে।'
প্রায় সাত দশকের অপেক্ষার অবসান। ৬৭ বছরে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি জিতল জম্মু ও কাশ্মীর। গোটা মরশুম জুড়ে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছেন আকিব নবি, পরশ ডোগরারা।
এমনকী, ফাইনালে শক্তিশালী কর্ণাটককে একবারের জন্যও ম্যাচে ফিরতে দেয়নি জম্মু-কাশ্মীর। রাজ্যের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সাক্ষী থাকতে এদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও।
চলতি মরশুমের রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতল পরশ ডোগরার দল। এদিন ম্যাচের পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় সেশনে অধিনায়ক পরশ ডোগরা ইনিংস ডিক্লেয়ার করার সঙ্গে সঙ্গেই কর্ণাটক জানিয়ে দেয় তারাও আর খেলতে চায় না।
তারপরেই ম্যাচ ড্র-এর ঘোষণা আম্পায়ার। প্রথম ইনিংসে বড় লিডের ভিত্তিতে চ্যাম্পিয়ন হয় জম্মু ও কাশ্মীর। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাস। ফাইনালের পঞ্চম দিনের দ্বিতীয় সেশন চলাকালীনই স্পষ্ট হয়ে যায় জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহাসিক জয়ের পথ।
ওপেনার কামরান ইকবাল দিনের প্রথম সেশনেই দুর্দান্ত শতরান করেন। অন্যদিকে মিডল অর্ডারের ব্যাটার সাহিল লোত্রা ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় অর্ধশতরান করে শতরানের দোরগোড়ায় পৌঁছে যান।
দিনের দ্বিতীয় সেশনে শতরান পূর্ণ করেন তিনিও। তারপরেই ইনিংস ডিক্লেয়ার করেন পরশ ডোগরা। দলের সতীর্থদের পাশাপাশি মাঠে উপস্থিত হয়ে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান।
রঞ্জি ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জম্মু ও কাশ্মীর। তারা প্রথম ইনিংসে ৫৮৪ রান তোলে। দলের হয়ে শতরান করেন শুভম পুন্ডির (১২১)।
জবাবে কর্ণাটক ক্রিকেট দলকে ২৯৩ রানে গুটিয়ে দেয় চ্যাম্পিয়ন দল। রঞ্জির চলতি মরশুমে বাকি ম্যাচের মতোই ফাইনালেও পেসার আকিব নবি পাঁচ উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।
কর্ণাটকের হয়ে একমাত্র বড় ইনিংস খেলেন অভিজ্ঞ ময়াঙ্ক আগরওয়াল। তিনি ১৬০ রান করেন। প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের লিড পাওয়ার পরই রঞ্জি জয় কার্যত সময়ের অপেক্ষা ছিল।
দ্বিতীয় ইনিংসেও দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেই লিড পৌঁছে যায় প্রায় ৬০০-র কাছাকাছি। এই বিশাল সংখ্যক রানই কার্যত জয়ের পথ প্রশস্ত করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ড্র হলেও প্রথম ইনিংসের বিশাল ব্যবধানের জেরেই ইতিহাস গড়ে রঞ্জি ট্রফি জিতে নেয় জম্মু ও কাশ্মীর।
আকিব নবিদের এই জয়ে তাঁদের অভিবাদন জানিয়েছেন আইসিসি প্রেসিডেন্ট জয় শাহও। তিনি লিখেছেন, 'ঐতিহাসিক জয়ের জন্য জম্মু ও কাশ্মীরকে অনেক অভিনন্দন। তবে এই জয়ের পিছনে শুধু ক্রিকেটার নয়, গোটা মরশুম জুড়ে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন সেই কোচিং স্টাফ এবং টিম ম্য়ানেজমেন্টের কথান ভুললেও চলবে না।'
