আজকাল ওয়েবডেস্ক: খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সঙ্কটের জেরে বড়সড় পরিবর্তনের মুখে পড়তে চলেছে পাকিস্তান সুপার লিগ। আগে যেখানে মুলতান, পেশোয়ার, ফয়সালাবাদ, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোর এই ছ’টি শহরে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, এখন তা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে শুধু করাচি এবং লাহোরে।

এছাড়া, সমস্ত ম্যাচই দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পিসিবি। পাশাপাশি, ব্যয় কমাতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে। চলতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট-ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পাকিস্তানে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ, স্কুল বন্ধ রাখা এবং ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই পিএসএল অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ ও বিশ্বজুড়ে ভক্তদের গুরুত্ব বিবেচনা করে টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টেডিয়ামে বড় সংখ্যক দর্শক সমাগমকে অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছে।

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বলেন, ‘জ্বালানি সঙ্কটের কারণে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে চলাচল সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা স্কুল বন্ধ করেছি, ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করেছি এবং ঈদের ছুটিও বাড়িয়েছি। এই যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পিএসএল নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই আয়োজন করা হবে। তবে একদিকে মানুষকে চলাচল সীমিত করতে বলব, আর অন্যদিকে প্রতিদিন স্টেডিয়ামে ৩০ হাজার দর্শক এসে খেলা দেখবেন, এটা সম্ভব নয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই সঙ্কট চলাকালীন ম্যাচে দর্শক রাখা হবে না। এটি কঠিন সিদ্ধান্ত, কিন্তু প্রয়োজনীয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।’

এর আগে পরিকল্পনা অনুযায়ী লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে সর্বাধিক ১৫টি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। রাওয়ালপিন্ডিতে ১১টি, ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে ৭টি, করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ৬টি এবং মুলতানে ৪টি ম্যাচ নির্ধারিত ছিল।

কিন্তু চলতি পরিস্থিতিতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে শুধুমাত্র করাচি এবং লাহোরে। লিগ পর্বে প্রতিটি দল ১০টি করে ম্যাচ খেলবে এবং সেখান থেকে প্রথম চারটি দল প্লে-অফে উঠবে।

নকআউট পর্বে কোয়ালিফায়ার ১, এলিমিনেটর, কোয়ালিফায়ার ২ ও ফাইনাল ম্যাচ হওয়ার কথা। ফাইনাল ম্যাচটি ৩ মে লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোনও পরিস্থিতিতে ম্যাচ না হলে ৪ মে রিজার্ভ ডে হিসেবে রাখা হয়েছে।