আজকাল ওয়েবডেস্ক: গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস গড়লেন পাকিস্তানের তরুণ বক্সার ফাতিমা জাহরা। ৬০ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে পদকজয়ী প্রথম পাকিস্তানি মহিলা বক্সার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। তবে এই সাফল্যের পেছনে তাঁর অনুপ্রেরণা কে জানেন? শুনলে অবাক হবেন। তাঁর স্বীকারোক্তিতে হতবম্ব ইন্টারনেট। তিনি ভারতের কিংবদন্তি বক্সার মেরি কম। ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করার পর এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২২ বছরের ফাতিমা বলেন, 'আমি ভারতের মেরি কমকে অনুসরণ করি।'
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধায় বেড়ে ওঠা ফাতিমার সামনে দেশের কোনও মহিলা বক্সার আদর্শ ছিলেন না। তাই সীমান্তের ওপারের মেরি কমই হয়ে ওঠেন তাঁর অনুপ্রেরণা। শুধু মেরি কমের অসাধারণ সাফল্যই নয়, দারিদ্র্য, সামাজিক বাধা এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও লড়াই করে বিশ্বসেরা হয়ে ওঠার গল্প গভীরভাবে প্রভাবিত করে তাঁকে। মণিপুরের এক দরিদ্র কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা মেরি কম গোপনে বক্সিং অনুশীলন শুরু করেছিলেন। মাঠে কাজের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিতেন। ভারতীয় বক্সার ছ'টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, অলিম্পিক ব্রোঞ্জ, এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসের সোনা এবং পাঁচটি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের নজির গড়েন।
ফাতিমা জানান, ২০১৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মেরি কমের বায়োপিক তাঁর জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, 'আমি মেরি কমের জীবন নিয়ে তৈরি সিনেমাটা বারবার দেখতাম। বক্সিং শুরু করার পর সেই সিনেমা দেখে অনুশীলন করতাম। তাঁর প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা রয়েছে। একদিন আমি তাঁর মতো হতে চাই। আশা করি, কোনও একদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগও পাব।' মেরি কমের মতোই নিজের স্বপ্নপূরণে পরিবারের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল ফাতিমাকেও। কিন্তু যাবতীয় বাধা অতিক্রম করে আজ তিনি এই জায়গায়। ফাতিমা বলেন, 'আমার পারিবারিক অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না। আমার প্রথম কোচই আমাকে সবকিছু শিখিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আমাকে বক্সিং করতে দিতে চায়নি। কিন্তু আমি লড়াই করেছি এবং অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছি।' তবে তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে পরিবারের মনোভাব বদলেছে। ফাতিমা বলেন, 'এখন আমার ম্যাচ বা প্রতিযোগিতার সময় ওরাই আমার থেকেও বেশি উদ্বিগ্ন থাকে।'
ঐতিহাসিক পদক পাকিস্তানের আরও মেয়েদের খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে বলেই বিশ্বাস ফাতিমার। তিনি বলেন, 'আমিও একসময় সাধারণ একটা মেয়ে ছিলাম। কঠোর পরিশ্রম আর অনুশীলনের মাধ্যমেই আজ এখানে পৌঁছেছি। যারা শুধু ঘরের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য হয়, তাঁদের বলব, স্বপ্ন দেখো, বাইরে বেরিয়ে এসো। আমার সংগ্রাম যদি অন্যদের অনুপ্রাণিত করে, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।'
















