আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেওয়াললিখনটা অনেকদিন ধরেই স্পষ্ট ছিল। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল বিদায়ের গন্ধ। শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কেবল অপেক্ষা ছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন আইএসএল জয়ী কোচ অস্কার ব্রজোঁ। ফেসবুকে আবেগঘন এক বার্তায় অস্কার জানিয়ে দিলেন, নতুন মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের টাচলাইনের ধারে আর দেখা যাবে না তাঁকে। লাল-হলুদ অধ্যায় শেষ হল স্প্যানিশ মায়েস্ত্রোর। 

যে দলটিকে একসময় সাফল্যের সংজ্ঞা খুঁজতে হতো অতীতের ধুলো জমা ট্রফির তাকের সামনে দাঁড়িয়ে, যে দল মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নামলেই যেন পরাজয়কে অনিবার্য নিয়তি বলে মেনে নিত, সেই দলকেই নতুন স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন অস্কার। হতাশার দীর্ঘ অন্ধকার পেরিয়ে তিনি এনে দিয়েছিলেন আলোর দিশা। তাঁর হাত ধরেই ইস্টবেঙ্গল ছুঁয়েছিল ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ--আইএসএল খেতাব।

শিল্ড ও সুপার কাপ ফাইনালে পৌঁছেও চ্যাম্পিয়ন না হওয়ার আক্ষেপ থেকে যাবে। কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত মনে রাখে অর্জনের গল্প। আর সেই গল্পে অস্কার ব্রজোঁর নাম লেখা থাকবে এমন এক কারিগর হিসেবে, যিনি হারতে হারতে ক্লান্ত এক দলকে আবার জয়ের ভাষা শিখিয়েছিলেন। 

May be an image of tennis and text

এবার নতুন পথের সন্ধানে ইস্টবেঙ্গলে। নতুন কোনও পথের খোঁজে অস্কার স্বয়ং। লাল-হলুদ সমর্থকদের স্মৃতিতে অস্কারের নাম থেকে যাবে এক বিশেষ আবেগ হয়ে। কারণ তিনি শুধু ট্রফি জেতাননি, তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বাস, ফিরিয়ে দিয়েছিলেন স্বপ্ন দেখার সাহস। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় লাল-হলুদ সমর্থকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লেখেন অস্কার। সেখানে তিনি লেখেন--

অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে আমি এই কথাগুলো আপনাদের লিখছি। আমাগো ফ্যান্স, আপনারাই ইস্টবেঙ্গলের হৃদয় ও আত্মা।

এই মরশুমটি আমি সারাজীবন মনে রাখব। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ জয় ছিল এক ঐতিহাসিক জয়, এবং সিনিয়র দলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি এই সাফল্যের সম্পূর্ণ দাবিদার। তাঁরা অসাধারণ পেশাদার এবং তার চেয়েও বড় কথা, অসাধারণ মানুষ।

আমরা আরও দুটি মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছিলাম—আইএফএ শিল্ড এবং সুপার কাপ। দুর্ভাগ্যবশত, দুটি ম্যাচই টাইব্রেকারে হেরে যাই। সেই হার গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল, কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে উঠে যে চরিত্র, দৃঢ়তা এবং মানসিক শক্তি এই দল দেখিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আইএসএল জয় করেছে, তা আমাদের সকলের গর্বের বিষয়।

মরসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩১ মে অনেক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

ফুটবল অনেক সময় জীবনের মতোই। স্থিতিশীলতা এবং সময়োপযোগী দৃঢ় সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনও সফল ক্রীড়া প্রকল্প সাফল্য অর্জন করতে পারে না।

তাই, এক মাস আগে সাংবাদিক সম্মেলনে আমি, আদ্রিয়ান এবং জ্যাভিয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমরা আর ইস্টবেঙ্গলে কাজ করব না। 

এই পরিক্রমার অংশ হওয়া প্রতিটি খেলোয়াড়, স্টাফ, সদস্য,ইমামি, ক্লাব কর্মকর্তা এবং সমর্থকের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা আপনাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছেন, এবং আশা করি আমরাও আপনাদের গর্ব করার মতো কিছু ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।

ইস্টবেঙ্গল সবসময়ে আমার হৃদয়ে থাকবে। 

অস্কার ব্রুজোঁ চলে যাওয়ার অর্থ, ইস্টবেঙ্গলকে এবার নতুন কোচের সন্ধান করতে হবে। কিন্তু অস্কার চলে যাওয়ায় ইস্টবেঙ্গল কি মিগুয়েল, রশিদ, এজেজারি ও কেভিন সিবিয়েকে কি ধরে রাখতে পারবে? অস্কার চলে গেলেন, তৈরি করে দিলেন অনেক প্রশ্ন। শেষে বলে দেওয়াই যায়, একদিন ইস্টবেঙ্গলে তিনি এসেছিলেন কোচ হয়ে, বিদায় নিলেন ইতিহাস হয়ে।