আজকাল ওয়েবডেস্ক: একটি দিন, যা শুধু একটি ক্লাবের নয়, ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসেরও এক গৌরবময় অধ্যায়। ২৯ আগস্ট সেই ঐতিহাসিক দিন, যেদিন খালি পায়ে মাঠে নেমে ব্রিটিশ শক্তিকে পরাজিত করে নতুন ইতিহাস লিখেছিল মোহনবাগান। ১৯১১ সালের আইএফএ শিল্ড জয়ের সেই স্মৃতি আজও বয়ে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। সেই আবেগ, সেই গর্ব আর ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়েই বুধবার সবুজ-মেরুনে পালিত হল মোহনবাগান দিবস।
১৯১১ সালের ২৯ অগাস্ট ইস্ট ইয়র্কশায়ারের মতো শক্তিশালী ব্রিটিশ ফৌজি দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান। সেই ঐতিহাসিক একাদশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করল ক্লাব।
ক্লাব প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মোহনবাগান দিবসের অনুষ্ঠান। ক্লাবের সচিব ও সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।
এরপর অমর একাদশের সদস্যদের স্মৃতির উদ্দেশে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান ক্রীড়ামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত খুদে মোহনবাগান সমর্থকদের সঙ্গেও সময় কাটান ইন্দ্রনীল খাঁ। এক ছোট্ট মোহনবাগানীকে কোলে তুলে নেন।
এরপর অমর একাদশের মূর্তির সামনে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ক্রীড়ামন্ত্রী ও ক্লাব কর্তারা। পরে প্রাক্তন ফুটবলারদের প্রীতি ম্যাচের আগে মাঠে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন। প্রাক্তনদের সঙ্গে করমর্দনের পর বল পায়ে মাঠে নেমে শট করে গোলও করেন ক্রীড়ামন্ত্রী।
অনুষ্ঠান শেষে ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মোহনবাগানের সেই লড়াই আজও ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়েছে। দেশের ফুটবলের প্রসারে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল-সহ অন্যান্য ক্লাবগুলির অবদানও তিনি তুলে ধরেন। ফুটবলকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে এই ক্লাবগুলির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
মোহনবাগান দিবসের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রাক্তন ফুটবলারদের প্রীতি ম্যাচ। শিবদাস ভাদুরি একাদশ ও বিজয়দাস ভাদুরি একাদশের মধ্যে হওয়া ম্যাচটি শেষ হয় ২-২ গোলে।
তবে মোহনবাগান দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে আগামিকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার। সেই দিন প্রয়াত অঞ্জন মিত্রকে মরণোত্তর মোহনবাগানরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মান জানানো হবে ক্লাবের সেরাদের।
















