আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন এক নায়কের আবির্ভাব ঘটল। তাঁর নাম মানব সুথার। দেশের জার্সিতে প্রথমবার সাদা পোশাকে মাঠে নেমেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ভবিষ্যতে ভারতীয় স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠার সমস্ত মশলা তাঁর মধ্যে রয়েছে। অভিষেক টেস্টেই সাত উইকেট শিকার করে ক্রিকেটমহলের নজর কেড়ে নিলেন এই তরুণ বাঁহাতি স্পিনার। প্রথম ইনিংসে ছ'উইকেটের পরে দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর শিকার এক উইকেট।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা এই টেস্টে মানব সুথারের ঘূর্ণির সামনে কার্যত অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করল আফঘানিস্তান। প্রথম ইনিংসে ২২ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচ করে ছ'উইকেট তুলে নেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও একটি উইকেট যোগ করে নিজের স্বপ্নের অভিষেক সম্পূর্ণ করেন। তাঁর ধারালো স্পিন ও নিখুঁত লাইন-লেন্থের সামনে আফগান ব্যাটারদের লড়াই করার মতো কোনও উত্তরই ছিল না।
ভারত প্রথম ইনিংসে ৫৬৪ রানে ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। দ্বিতীয় দিনের শেষেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। তৃতীয় দিনের সকালে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে সুথার প্রতিপক্ষের ব্যাটিং অর্ডারকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। ফলে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫২ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান এবং তাদের ফলো-অন করানো হয়।
দ্বিতীয় ইনিংসেও দৃশ্যপটের খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। যদিও সেখানে মানব সুথারের ঝুলিতে আসে একটি উইকেট, বাকি ধ্বংসযজ্ঞের দায়িত্ব সামলান কুলদীপ যাদব ও ওয়াশিংটন সুন্দর। কুলদীপ তিনটি এবং ওয়াশিংটন চারটি উইকেট নিয়ে আফগানদের দ্বিতীয় ইনিংসকে দ্রুত গুটিয়ে দেন। ওপেনার সিদ্দিকুল্লা অটলের ৪২ এবং রহমানুল্লা গুরবাজের ২৪ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনও প্রতিরোধ গড়ে উঠতে দেখা যায়নি।
ফলাফল, মাত্র আড়াই দিনের মধ্যেই এক ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ভারত। পরিসংখ্যান বলছে, টেস্ট ক্রিকেটে রানের বিচারে এটাই ভারতের সবচেয়ে বড় জয়। ২০১৮ সালে রাজকোটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এক ইনিংস ও ২৭২ রানে হারানোর নজিরও ছাপিয়ে গেল এই সাফল্য।















