আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে প্রায় ৪০ ঘণ্টার দীর্ঘ বাসযাত্রা শেষে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় পৌঁছেছেন ইরান ফুটবল দল। তবে বিশ্বকাপ খেলতে মেক্সিকো পৌঁছতেই নজর কাড়ল ইরানি ফুটবলারদের পোশাক।

বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় দলের খেলোয়াড়দের পরনে ছিল ভ্রমণের পোশাকই। তবে সবার নজর কাড়ে তাদের কোটের ল্যাপেলে লাগানো বিশেষ ব্যাজ। সেখানে লেখা ছিল ‘#168’।

এই নির্দিষ্ট নম্বরের পিছনে একটা তাৎপর্য রয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রথম দিনে একটি ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ১৬৮ জন।

তাঁদের স্মরণেই পোশাকে এই ব্যাজ লাগিয়েছেন ফুটবলাররা। এই একই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ইরানের ফুটবলারদের প্রকাশ্যে আবেগ বা নীরবে প্রতিবাদ করার ঘটনা নতুন নয়।

মার্চ মাসে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন ইরানের প্রথম একাদশের ফুটবলাররা নিহত শিশুদের স্মরণে স্কুলব্যাগ হাতে দাঁড়িয়েছিলেন।

এর কিছুদিন পর কোস্টারিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ফুটবলাররা নিহত শিশু ও দেশের সাধারণ নাগরিকদের ছবি তুলে ধরেন। পাশাপাশি, বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ছবিও তুলে ধরেন তারা।

গত শনিবার তুরস্কের আনতালিয়া থেকে মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দেয় ইরান। কিন্তু রওনা দেওয়ার সময় খেলোয়াড়দের পোশাকে এই বিশেষ ব্যাজ দেখা যায়নি। জানা যাচ্ছে, রাস্তাতেই ফুটবলাররা নিজেদের গাঢ় নীল রঙের জ্যাকেটের ব্যাজ লাগিয়ে মেক্সিকোতে পদার্পণ করেন।

তিজুয়ানায় পৌঁছানোর পরই তাঁদের পোশাকে এই ব্যাজ দেখা গিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের ম্যাচে ফুটবলাররা এই ব্যাচ পরে নামবেন কিনা সে সম্পর্কে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন আদৌ কি এই ধরনের প্রতিবাদের ব্যাচ পরে নামতে অনুমতি পাওয়া যাবে? ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের ব্যবহৃত সরঞ্জাম বা পোশাকে কোনও ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত স্লোগান, বক্তব্য বা ছবি থাকা যাবে না।

এই ধরনের নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় বা দলকে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এই বিধিনিষেধ শুধু খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেই নয়, টেকনিক্যাল এরিয়ায় থাকা কোচ এবং কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ফিফা আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, জীবিত বা মৃত কোনও ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে কিংবা নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক ঘটনা-সংক্রান্ত স্লোগান, বক্তব্য বা ছবিও প্রদর্শন করা যাবে না।

এর আগে কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে ইরানি ফুটবলারদের প্রতিবাদের সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উপস্থিত ছিলেন। তখন ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

মেক্সিকো রওনা দেওয়ার আগে তুরস্কে গাম্বিয়া ও মালির বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীতের সময় ইরানি খেলোয়াড়রা ডান হাত বুকে রেখে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রতিবাদ বা সংহতির বার্তা প্রকাশের ক্ষেত্রে ইরানি ফুটবলাররা অন্য জায়গাও বেছে নিতে পারেন। তাঁরা প্রতিবাদ করলে কোথায় এবং কীভাবে করবেন, সে বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হতে পারে।