আজকাল ওয়েবডেস্ক: চিপকে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে প্রত্যাবর্তন কলকাতা নাইট রাইডার্সের। পাওয়ার প্লের শেষে হলুদ আর্মিরা যে জায়গায় ছিল, অনায়াসেই ২২০-২৩০ রান তোলা উচিত ছিল। কিন্তু শেষ ৪-৫ ওভারে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে নাইটরা। বৈভবের একটি ২০ রানের ওভার ছাড়া বাকিদের যথেষ্ঠ কৃপণ বোলিং। বিশেষ করে সুনীল নারিনের। ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন ক্যারিবিয়ান তারকা। প্রশংসা করতে হবে কার্তিক ত্যগিরও। ৪ ওভারে ৩৫ রানে নেন জোড়া উইকেট। যার ফলে ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি চেন্নাই সুপার কিংস। নির্ধারিত ওভারের শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান চেন্নাইয়ের। অজিঙ্ক রাহানের বোলিং পরিবর্তনের প্রশংসা করতে হবে। 

টসে জিতে চেন্নাইকে ব্যাট করতে পাঠান কেকেআরের অধিনায়ক। শুরুতে ঋতুরাজ গায়কোয়ারের উইকেট হারালেও পাওয়ার প্লেতে যথেষ্ঠ ভাল খেলে সিএসকে। আগের ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, ঠিক সেখান থেকেই শুরু করেন সঞ্জু স্যামসন। শুরুতেই চারের হ্যাটট্রিক। বৈভব আরোরাকে পরপর তিন বলে চার মারেন সঞ্জু স্যামসন। প্রথম ওভারে ১৪ রান নেয় চেন্নাই। একটি চার মেরে শুরু করলেও আবার ব্যর্থ ঋতুরাজ। ৬ বলে ৭ রান করে আউট হন। তবে তাতে সমস্যায় পড়েনি চেন্নাই। পাওয়ার প্লের পূর্ণ ফায়দা তোলেন আয়ুশ মাত্রে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক নামার পর কিছুটা ব্যাকসিট নিয়ে নেন সঞ্জু। অ্যাঙ্করের ভূমিকা পালন করেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও চিপকের দর্শকদের মনোরঞ্জন করেন আয়ুশ। 

আইপিএল মাতাচ্ছেন তাঁর সতীর্থ বৈভব সূর্যবংশী। এদিন ১৭ বলে ৩৮ রান করে আউট হন আয়ুশ। মারকুটে ইনিংসে ছিল ২টি ছয়, ৬টি চার। স্ট্রাইক রেট প্রায় ২২৪ এর কাছাকাছি। তিনি উইকেটে আরও কিছুক্ষণ টিকে থাকতে পারলে, অনায়াসেই দুশোর গণ্ডি পার করত চেন্নাই। পাওয়ার প্লের শেষ বলে আউট হন মুম্বইয়ের ক্রিকেটার। ৬ ওভারের শেষে ২ উইকেট হারিয়ে চেন্নাইয়ের রান ছিল ৭২। আয়ুশ আউট হওয়ার পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে নাইটরা। চেন্নাইয়ের উইকেট থেকে সাহায্য পায় স্পিনাররা। এদিন তৃতীয় ওভারেই স্পিনার আনেন রাহানে। বল দেন অনুকূল রায়কে। চেন্নাইয়ের ব্যাটিং লাইন আপে প্রথম আঘাত আনেন তিনিই। তৃতীয় উইকেটে পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করে সঞ্জু স্যামসন এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। কিন্তু অর্ধশতরানের আগেই ফেরেন সঞ্জু। ৩২ বলে ৪৮ রান করে আউট হন। ইনিংসে ছিল ৩টি ছয়, ৪টি চার। কার্তিক ত্যাগীর বলে বোল্ড হন সঞ্জু। বল হাতে নজর কাড়েন তরুণ বোলার। তুলে নেন জোড়া উইকেট। ব্রেভিসকেও ফেরান তিনি। নাইটদের বিরুদ্ধে চেন্নাইয়ের দুই সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীকে প্যাভিলিয়নে ফেরান ত্যাগী। ২৯ বলে ৪১ রান করে আউট হন ব্রেভিস। সংক্ষিপ্ত ২৩ রান করেন সরফরাজ। নিয়মিত উইকেট হারানোয় রানের পাহাড়ে পৌঁছতে পারেনি চেন্নাই। হারের হ্যাটট্রিকের পর প্রথম ম্যাচ জয়ের হাতছানি নাইটদের সামনে।