আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাত্র ৪০ দিন আগেও হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে লড়াই করছিলেন জেসমিন লাম্বোরিয়া। দীর্ঘদিনের জ্বর ও পেটের সমস্যায় থমকে গিয়েছিল তাঁর প্রস্তুতি। কিন্তু শনিবার গ্লাসগোয় সেই জয়সমিনই উঠলেন কমনওয়েলথ গেমসের সোনার মঞ্চে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতীয় বক্সার হারালেন বর্তমান কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়ন মাইকেলা ওয়ালশকে এবং লিখলেন এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প।

জেসমিনের সোনার পদকের পাশাপাশি ভারতের হয়ে আরও একটি সোনা এনে দেন প্রীতি পাওয়ার। মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগের ফাইনালে দাপুটে জয় তুলে নেন তিনি। অন্যদিকে পুরুষদের ৫৫ কেজি বিভাগে জাডুমণি সিং লড়াই করে রুপো পান। একদিনে ভারতের বক্সিংয়ে দু'টি সোনা ও একটি রুপো প্রমাণ করল, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের বক্সিংয়ের শক্তি ক্রমশ বাড়ছে।

তবে জেসমিনের সাফল্যের গুরুত্ব আলাদা। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় অনুশীলনের বাইরে থাকার পর গ্লাসগো পৌঁছনোটাই তাঁর কাছে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সুস্থ হওয়ার পর হাতে ছিল মাত্র তিন সপ্তাহের প্রস্তুতি। সেই সীমিত সময়ের মধ্যেই বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া, কোচিং স্টাফ এবং স্পোর্টস সায়েন্স দলের সহযোগিতায় নিজেকে প্রতিযোগিতার জন্য তৈরি করেন তিনি।

ফাইনালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই কঠিন লড়াই হয়। প্রথম রাউন্ডে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন ভারতীয় বক্সার। তাঁর নিখুঁত কম্বিনেশন, দ্রুত আক্রমণ এবং পরিষ্কার পাঞ্চে পরের রাউন্ডগুলোতে এগিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত ৫-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন জেসমিন। 

এই জয়ের পিছনের লড়াইটাই হয়তো দীর্ঘদিন মনে থাকবে। ছয় সপ্তাহ আগেও অসুস্থতার কারণে তাঁর প্রস্তুতি অনিশ্চিত ছিল। সেখান থেকে ফিরে কমনওয়েলথের মতো বড় মঞ্চে চ্যাম্পিয়ন হওয়া তাঁর মানসিক শক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার সাফল্যের প্রমাণ।