আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাত পোহালেই ডার্বি। ডুরান্ড ডার্বি দিয়ে ফুটবল মরশুম শুরু। অন্যান্যবার বড় ম্যাচের আগে যে ছবি চোখে পড়ে, এবার তার থেকে কিছুটা আলাদা। ডুরান্ড ডার্বির টিকিটের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। হাপিত্যেশ পড়ে যায়। এবারও চাহিদা রয়েছে। তবে অন্যান্যবারের মতো নয়। তার প্রাথমিক কারণ ডার্বির সময়। দুই দলই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। সদ্য প্রাক মরশুম প্রস্তুতি শুরু করেছে ইস্ট-মোহন। মঙ্গলবার দলবল নিয়ে প্র্যাকটিসে নামেন পানাগিওটিস দিলমপেরিস এবং আন্তোনিও হাবাস। সবে মাত্র চারদিনের প্রস্তুতিতে খেলতে হবে ডার্বি। সুতরাং, কোনও দলই তেমন প্রস্তুত নয়। তাই সেরা ফুটবল দেখার তেমন সম্ভাবনা নেই। দুই দলই সম্ভবত চোট-আঘাত এড়িয়ে খেলার চেষ্টা করবে। মরশুম শুরুতে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইবেন না দুই কোচ।
ডার্বির আগে যদি দুই দলকে দাঁড়িপাল্লায় মাপা হয়, কিঞ্চিৎ এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল। ফুটবলীয় কারণে নয়, আত্মবিশ্বাসে। প্রথমত, আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ত, বেঞ্চে এমন একজন কোচ রয়েছেন যিনি কখনও ডার্বি হারেননি। অভিজ্ঞতার ভান্ডার। তবে বিশ্বকাপজয়ী দেশের কোচের যাবতীয় অপরাজেয় রেকর্ড মোহনবাগানের কোচ হিসেবে। এবার লাল হলুদের বেঞ্চে বসে লড়তে হবে তাঁর পুরনো ক্লাবের বিরুদ্ধে। আপাতত ধারে-ভারে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য উনিশ-বিশ হলেও, মানসিকতা, স্পিরিটে পার্থক্য রয়েছে। এই বিষয়ে কিছুটা এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল। প্রাক ডার্বির প্রস্তুতিতে দুই শিবিরের ছবিতে যা স্পষ্ট।
শুক্রবার বিকেলে যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে ডার্বির চূড়ান্ত প্রস্তুতি সাড়ে মোহনবাগান। অন্যদিকে রাজারহাটের সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে অনুশীলন করে ইস্টবেঙ্গল। দুই মাঠেই সমর্থকদের হাজিরা ছিল। তবে সংখ্যায় হাবাসের শিবিরে বেশি। মনবীর সিং, আশিস রাইরা মাঠ ছাড়ার সময় হাতেগোনা কয়েকজন সই শিকারিদের হাতে ধরা পড়েন। সেই তুলনায় লাল হলুদের প্র্যাকটিসে সমর্থকদের সংখ্যা ছিল তুলনায় বেশি। রশিদ, আনোয়ার, জিকসনদের সঙ্গে সেলফি পর্ব চলে। হাবাসের সঙ্গে সেলফি তোলার পাশাপাশি ছিল জয়ের অনুরোধও। যা হাসিমুখে গ্রহণ করেন প্রাক্তন মোহনবাগান কোচ।
গত কয়েক মরশুম ধরে কলকাতা ডার্বি দেখেছে দুই স্প্যানিশের মগজাস্ত্রের লড়াই। এবার একটু স্বাদ বদল। এবার স্প্যানিয়ার্ডের সঙ্গে গ্রিকের দ্বৈরথ। আপেক্ষিক দৃষ্টিতে, দুই কোচই বেশ কড়া। গত দিনদিন ধরে ফুটবলারদের কালঘাম ছুটিয়ে দেন। ম্যাচের আগের দিনও ছিল কঠোর অনুশীলন। লাল হলুদ শিবির বেশি ফুরফুরে। দলের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলন করেন রশিদ এবং রামিরেজ। দেখে মনে হল, প্রাথমিক দলে না থাকলেও, দু'জনকেই হয়ত পরে কিছুক্ষণের জন্য নামাবেন হাবাস। এদিনও দলের সঙ্গে প্র্যাকটিস করেননি দানিশ ফারুক এবং বরিস সিং। ডার্বিতেও নেই তাঁরা। প্রথম একাদশ মোটামুটি ছকে ফেললেও, গোলের নীচে প্রভসুখন গিল না লাচেনপাকে দেখা যাবে সেটা এখনও ঠিক হয়নি। অন্যদিকে জোরদার প্রস্তুতি চলে মোহনবাগানেও। প্রথমে শারীরিক কসরতের পর বল প্র্যাকটিস। সরাসরি ম্যাচ সিচুয়েশনে চলে যান প্যানোস। শেষে সেট পিস অনুশীলন। প্রথম দু'দিন ড্রাজিচ দলের সঙ্গে প্র্যাকটিস না করলেও, এদিন পুরোদমে অনুশীলন করেন। প্র্যাকটিস দেখে বোঝা যায়, পরিবর্ত হিসেবে নামবেন সার্বিয়ান ফুটবলার। শনিবার কি হাবাসের ডার্বি রেকর্ড ভাঙতে পারবেন মোহনবাগানের নতুন হেড কোচ? উত্তর পেতে কিছুক্ষণের অপেক্ষা।
















