আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইএসএলের একাধিক ফুটবলারকে নামিয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু ক্যালকাটা কাস্টমসের বাঙালি ছেলেরা মাটি ধরিয়ে দিল মোহনবাগানকে। তাও আবার সবুজ-মেরুনের ঘরের মাঠে।
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য আজ কাস্টমসের ডাগ আউটে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর জায়গায় দলের রিমোট কন্ট্রোল ছিল রাজীবের হাতে। সেই রাজীবের হাত ধরেই কাস্টমস হারিয়ে দিল মোহনবাগানকে। ম্যাচ শেষে রাজীব বলছেন, ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা দল মোহনবাগান। এই ধরনের ম্যাচ খেলতেই ফুটবলারদের তৈরি করা হয়। মোহনবাগানের মতো দলের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগই খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তাও আবার বাঙালি ছেলেদের নিয়ে গড়া কাস্টমস হারিয়ে দিল মোহনবাগানের মতো দলকে।
ম্যাচের পর রাজীব বলেন, “অবশ্যই ভারতবর্ষের সেরা টিমগুলোর একটি মোহনবাগান। এমন দলের সঙ্গে খেলার জন্যই আমরা আমাদের প্লেয়ারদের তৈরি করি। ফার্স্ট ডিভিশন আর প্রিমিয়ার ডিভিশনের তফাত এটাই। প্রিমিয়ার ডিভিশনে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়া যায়। প্লেয়াররা এই ম্যাচগুলোর জন্য মুখিয়ে থাকে।”
মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নামার আগে ফুটবলারদের স্বাভাবিক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও জানান রাজীব। তাঁর কথায়, “আমরা প্লেয়ারদের বলেছিলাম, ম্যাচটাকে আর পাঁচটা সাধারণ ম্যাচের মতো নিতে। ওরা স্বাভাবিকভাবে খেলেছে, নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে। তার ফলেই আজ ফল পেয়েছি।”
তবে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অনুশীলনের মাঠ। কম বাজেটের দলের জন্য ভাল মাঠ পাওয়া কঠিন বলে জানান রাজীব। তিনি বলেন, “মাঠ পাওয়া আমাদের মতো কম বাজেটের টিমের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা। এই ম্যাচের আগে আমরা সেভেন-আ-সাইড, নাইন-আ-সাইড এবং অ্যাস্ট্রোটার্ফের মাঠে গিয়ে প্র্যাকটিস করেছি। মোহনবাগানের মতো সুন্দর মাঠে খেলতে গেলে প্লেয়ারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য ভাল মাঠে অনুশীলন প্রয়োজন ছিল। তাই আমরা দু’দিন ভালভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম অ্যাস্ট্রোটার্ফের মাঠে।”
মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নিজেদের পরিকল্পনা বদলাননি বলেও জানান তিনি। “যে পরিস্থিতিতে, যে ফর্মেশনে আমরা খেলি, সেই একই ফর্মেশনে খেলেছি। প্লেয়ারদের যেভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, ওরা সেটা ঠিকভাবে পালন করেছে। সেটাই আমাদের জয়ের অন্যতম কারণ,” বলেন রাজীব।
ম্যাচের আগে দলের মেন্টর বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। রাজীব বলেন, “বিশুদার সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন কাজ করছি, প্রায় চার-পাঁচ বছর। আজ সকালেও কথা হয়েছে। কয়েকজন প্লেয়ারের চোট নিয়ে আলোচনা করেছি। উনি যেভাবে শিখিয়েছেন, আমি যতটুকু শিখেছি, সেটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।”
ম্যাচে বাতিল হওয়া গোলের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন কাস্টমস কোচ। তিনি বলেন, “আমরা যে জায়গায় ছিলাম, সেখান থেকে বোঝা খুব কঠিন ছিল ঠিক কী হয়েছে। তবে রেফারি এবং লাইন্সম্যানরা ভাল জায়গায় ছিলেন, তাঁরাই বিষয়টা ভাল বলতে পারবেন।”
রেফারির সঙ্গে কথা বলে ফাউলের কারণ জানতে পেরেছেন বলেও জানান রাজীব। তাঁর বক্তব্য, “রেফারি বলেছেন ফাউল হয়েছিল। আমার প্রশ্ন ছিল, যদি ফাউল হয়, তাহলে সেটা আগে হলে ভাল হতো। মনে হয়েছে ফাউলের কারণে গোলটা বাতিল হয়েছে।”
নিজেদের দল গঠন নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেছেন কাস্টমস কোচ। মরশুমের শুরু থেকেই বাঙালি ফুটবলারদের নিয়ে দল গড়ার বার্তা দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। রাজীব বলেন, “আমি সিজনের শুরুতেই বলেছিলাম, আমাদের ৩৩ জনের স্কোয়াডে ৩৩ জনই বাঙালি। বাঙালি প্লেয়ারদের নিয়েও ভাল ফুটবল খেলা যায়, সেটা আজ প্লেয়াররা মাঠে প্রমাণ করেছে।”
মোহনবাগানকে হারিয়ে ক্যালকাটা কাস্টমস শুধু তিন পয়েন্টই নয়, নিজেদের সামর্থ্যেরও প্রমাণ দিল, এমনটাই মনে করছেন কোচ রাজীব।
















