আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের যুগের অবসান? নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে উঠছে প্রশ্ন।
ভারতের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সূর্যকুমার যাদবের অধ্যায় আপাতত শেষ হয়ে গেল বলেই মনে হচ্ছে। ৩০ বছর বয়সে ভারতের হয়ে অভিষেক, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ম্যাচজয়ী ক্যাচ, এরপর অধিনায়ক হিসেবে আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়—সবকিছুর পরও ৩৫ বছর বয়সে তাঁকে দল থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিস্ময়কর বলে মনে হচ্ছে।
যদিও শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বগুণ এবং সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই, তবুও ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের সেটআপ থেকে সূর্যকুমার যাদবের সম্পূর্ণ অবলুপ্তি অনেকের কাছেই কঠোর সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে।
অধিনায়ক হিসেবে সূর্য ছিলেন অপরাজিত। রোহিত শর্মার অবসরের পর ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বের দৌড়ে হার্দিক পাণ্ডিয়ার নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু হেডকোচ গৌতম গম্ভীর চমক দিয়ে দায়িত্ব তুলে দেন তাঁর প্রাক্তন কেকেআর সতীর্থ ও সহ-অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের হাতে।
আর সেই আস্থার মর্যাদা দিয়েছিলেন ‘স্কাই’। পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ। ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে অন্তত ১০ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যে সূর্যকুমারের জয়ের হার সর্বোচ্চ—৫২ ম্যাচে ৪২টিতে জিতেছেন।
তাঁর নেতৃত্বে ভারত একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজও হারেনি। সবকিছুর চূড়ান্ত সাফল্য আসে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের হাতে ওঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ট্রফি।
অন্যদিকে, শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বের রেকর্ডও যথেষ্ট উজ্জ্বল। আইপিএলে টানা দুই মরশুম দলকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি এবং নিজেও মিডল অর্ডারে ধারাবাহিকভাবে রান করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একজন বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় অধিনায়কের চেয়ে শক্তিশালী জীবনপঞ্জী আর কার হতে পারে?
ব্যাটার হিসেবেও কি আরও সুযোগ প্রাপ্য ছিল সূর্যকুমারের?
গত কয়েক মাসে সূর্যর ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে সমালোচনা হয়েছে যথেষ্ট। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ থেকেই তাঁর ব্যাটে বড় রান কমে গিয়েছিল।
আইপিএল ২০২৬-এও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পারায় নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত আরও সহজ হয়ে যায়।
তবে বিশ্বমঞ্চে তিনি এখনও ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা রাখেন, সেটাও প্রমাণ করেছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম ম্যাচে যখন প্রায় সব ব্যাটারই ব্যর্থ, তখন সূর্যকুমারের অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসই দলকে জয়ের পথে নিয়ে যায়। সেই ইনিংস না এলে ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুতেই বড় ধাক্কা খেতে পারত।
এছাড়া আইপিএল ২০২৬-এর শেষ ম্যাচেও তিনি অর্ধশতরান করেছিলেন, যা তাঁর দক্ষতারই প্রমাণ।
এক সময় আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের ব্যাটিংয়ের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিলেন সূর্য। তাঁর ৩৬০ ডিগ্রি শট খেলার ক্ষমতা ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। তাই অনেকের মতে, শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবেও তিনি আরও কিছুটা সময় পাওয়া উচিত ছিল।
গম্ভীরের সঙ্গে ছিল দুর্দান্ত বোঝাপড়া। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সূর্যকুমার যাদবকে 'একজন অসাধারণ নেতা' বলে প্রশংসা করেছিলেন গৌতম গম্ভীর। তাই তাঁকে সম্পূর্ণভাবে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে গম্ভীরের সময়ে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা শোনা গেলেও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সূর্যকুমারের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো।
গম্ভীর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ''খেলোয়াড়দের সঙ্গে ওর সম্পর্ক, তাদের সঙ্গে সময় কাটানোর ধরন এবং মাঠে শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষমতা অসাধারণ। একজন কোচ হিসেবে এমন অধিনায়ক পাওয়া স্বপ্নের মতো।''
এখন সেই নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ করার দায়িত্ব নিতে হবে নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারকে।
শুধুমাত্র সাম্প্রতিক ব্যাটিং ফর্ম বিচার করলে সূর্যকুমার যাদবকে বাদ দেওয়ার পক্ষে যুক্তি খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু ভারতীয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর অবদান কেবল রান বা ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
অধিনায়ক হিসেবে তিনি সাফল্য পেয়েছেন এবং দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ জয় এনে দিয়েছেন। তাই অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর কাছেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, একজন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কি সত্যিই এর চেয়ে সম্মানজনক বিদায় পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না?















