আজকাল ওয়েবডেস্ক: অজিঙ্কে রাহানের সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ফের নেতৃত্বের সমস্যার মুখে দাঁড় করিয়েছে। নিলামে রাহানেকে দলে নেওয়ার পরই তাঁকে অধিনায়ক করেছিল কেকেআর। কিন্তু অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের সরে দাঁড়ানোর পর আগামী আইপিএল মরসুমের আগে নতুন নেতা খুঁজতে হবে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের।
কেকেআরের ইতিহাস বলছে, অধিনায়ক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা বারবার নিলামের উপরই ভরসা করেছে। দলের অন্দরের কোনও ক্রিকেটারকে তুলে আনার বদলে প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা থাকা খেলোয়াড়দের দলে এনে দায়িত্ব দেওয়ার রীতি রয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির।
এই পথ চলার শুরু ২০১১ সালে। সেই সময় নিলাম থেকে গৌতম গম্ভীরকে দলে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় কেকেআরের ভাগ্য। গম্ভীরের নেতৃত্বে ২০১২ এবং ২০১৪ সালে আইপিএল ট্রফি জেতে কলকাতার দল। পরে আবার গম্ভীর মেন্টর হওয়ার পরে কেকেআর আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
গম্ভীর দল ছাড়ার পর ফের নিলাম থেকে নেতৃত্বের সমাধান খোঁজে কেকেআর। ২০১৮ মরসুমের আগে দীনেশ কার্তিককে দলে নিয়ে তাঁকে অধিনায়ক করা হয়। কার্তিকের নেতৃত্বে দল প্লে-অফে পৌঁছলেও ২০২০ সালে মাঝপথে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর ফের নিলাম থেকে দলে নেওয়া ইয়ন মর্গ্যানের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়। মর্গ্যানের নেতৃত্বে ২০২১ সালে আইপিএল ফাইনালে ওঠে কেকেআর।
২০২২ সালের মেগা নিলামেও একই পথে হাঁটে ফ্র্যাঞ্চাইজি। শ্রেয়স আইয়ারকে দলে নিয়ে সরাসরি অধিনায়ক করা হয় তাঁকে। সেই সিদ্ধান্তের সঠিক জবাব দেন শ্রেয়স, তাঁর নেতৃত্বেই ২০২৪ সালে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।
শ্রেয়সের বিদায়ের পর ২০২৫ মরসুমে ফের নিলামের মাধ্যমে রাহানেকে দলে নেয় কেকেআর এবং তাঁকেই অধিনায়ক করা হয়। কিন্তু রাহানের অবসরের ফলে ফের নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে নামতে হচ্ছে শাহরুখ খানের দলকে।
বর্তমান দলে থেকেই যদি অধিনায়ক বেছে নিতে হয়, তাহলে রিঙ্কু সিং অন্যতম সম্ভাব্য নাম। দীর্ঘদিন ধরে কেকেআরের সঙ্গে থাকা রিঙ্কু এখন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ম্যাচ উইনার। ড্রেসিংরুমেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা খুব বেশি না থাকায় তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া বড় ঝুঁকি হতে পারে।
অন্যদিকে, সুনীল নারিনও একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কেকেআরের সঙ্গে থাকা নারিন দলের তিনটি আইপিএল জয়েরই অংশ। ফ্র্যাঞ্চাইজির সংস্কৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে তাঁর ধারণা গভীর। তবে তাঁর বয়স এবং কেরিয়ারের শেষ পর্বে পৌঁছে যাওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়ক হিসেবে নারিনকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা কম।
মনীষ পাণ্ডের কাছেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু তিনিও আইপিএল কেরিয়ারের শেষ দিকে, তাই ভবিষ্যতের জন্য তাঁকে ঘিরে দল গড়া কঠিন।
ফলে রাহানের অবসরের পর কেকেআরের হাতে এই মুহূর্তে কোনও স্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়ক নেই। রিঙ্কুর অভিজ্ঞতার অভাব, নারিনের বয়স এবং পাণ্ডের সীমিত ভবিষ্যৎ, সব মিলিয়ে আবারও নিলামের দিকেই তাকাতে হতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে।
















