রিয়া পাত্র

প্রতীক উর রহমান। সৃজন ভট্টাচার্য। এক সময়ের এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য এবং তাঁর সঙ্গে যাবতীয় দায়িত্ব ভাগ করে, সভাপতি ছিলেন প্রতীক-উর রহমান। রাজ্য রাজনীতিতে তাঁদের জুটিকে এই প্রজন্মের অনেকেই শ্যামল-সুভাষ জুটির সঙ্গেও তুলনা করেছেন বহুবার। সেই জুটি পদের হিসেবে ভেঙেছে আগেই। উত্তরসূরিদের জায়গা ছেড়েছিলেন তাঁরা। তবে বাম রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি।

 

কিন্তু এবার জুটি ভাঙল। সোমবার আচমকা প্রকাশ্যে আসে প্রতীক উর রহমানের একটি চিঠি। তাতে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য কমিটি থেকে এবং দলের প্রাথমিক পদ থেকে পদত্যাগ করছেন তিনি। প্রতীক উর ইস্তফা পত্রে লিখেছেন, 'আমি প্রতীক উর রহমান। পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী। সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সাথে আমি নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছি না, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি পার্টি ও রাজ্য কমিটির দায়িত্ব তৎসহ পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্য়াহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্ত সকলকে অবগত করলাম।'  

 

প্রতীক উরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বারবার জোর দিয়েছেন 'দলের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে দলের বাইরে বলব না' বিষয়টিতে। তবে এই চিঠি যে তাঁর লেখা নয়, তা একবারও বলেননি। জল্পনার জল গিড়িয়েছে বহুদূর। জল্পনা, তিনি নাকি এবার ঘাসফুলের দিকে ঝুঁকছেন। 


প্রতীক উর নিয়ে ধাঁধা রাজ্য রাজনীতিতে। কী বলছেন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। বন্ধুর সঙ্গে কথা হল? তিনিও কি খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না দলের সঙ্গে? সৃজনও কি এক পা এক পা করে এগোচ্ছেন তৃণমূলের দিকে? একাধিক প্রশ্ন। উত্তর জানতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল সৃজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে।

প্রতীক উরের পদত্যাগ, শুনেই প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

সৃজন বলছেন, 'আমি ফেসবুকে দেখলাম এইরকম একটি চিঠির কথা। ওর সঙ্গে আমার দীর্ঘ সময়ের কাজ করার অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা বলে, ও একজন সৎ, লড়াকু, নির্ভীক কমরেড ছিল। ২০০৮-০৯ সাল থেকে নানা সময়ে, নানা আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে নেতার ভূমিকা পালন করেছে। খেয়াল রাখতে হবে, প্রতীক উর কিন্তু কেবল দলের সুসময়টুকুর কর্মী নয়, ও বাম আন্দোলনের দুঃসময়ের নেতা। খুব উথালপাথাল কোনও দুঃখকষ্ট মনের মধ্যে তৈরি না হলে ওর এমন চিঠি লেখার কথা নয়।'

কিন্তু এই দলত্যাগ, আপনি হতবাক?

সৃজন: ও আমার অত্যন্ত কাছের বন্ধু, সুতরাং গতকাল থেকে যা চলছে, তাতে আমি অ্যাফেক্টেড নই বললে তো মিথ্যে বলা হবে। আমাদের দলের সঙ্গে ও যদি খাপ খাওয়াতে না পারে, সেটা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে বেদনাদায়ক অবশ্যই। ব্যক্তি-আবেগ সরিয়ে রেখে একদম নৈর্ব্যক্তিক ভাবে দেখলেও, প্রতীকউর-এর মতো ছেলেকে কমিউনিস্ট পার্টির সম্পদ হিসেবেই দেখা উচিত। তবে, আমি বুঝছি না এত জল্পনার কারণ কী। প্রতীকউর নিজে তো কোথাও প্রকাশ্যে বলেনি, ও আমাদের পার্টি ছেড়ে যাচ্ছে।

চিঠি যে তাঁর নয়, সেকথাও বলেননি কোথাও...

সৃজন: চিঠি কার, কে ফাঁস করল, সেসব আমি কী করে বলব। প্রতীক উর নিজে যতক্ষণ না দল ছাড়ার কথা বলছে, ততক্ষণ এসব গালগল্পে কান দেওয়ার কী দরকার বুঝছি না। ও কিন্তু এখনও বলেনি কোথাও, ও অন্য দলে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছে। আমি শেষ পর্যন্ত আমার বন্ধুর ভাষ্যকেই বিশ্বাস করতে চাইব। 

প্রতীক উরের সঙ্গে কথা হল বন্ধু সৃজনের?

সৃজন: হয়েছে। যেহেতু প্রতীকউর নিজে বলেছে এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। মহঃ সেলিম সহ আমাদের নেতারাও বলেছেন, এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সুতরাং এই প্রসঙ্গে ওর আর আমার কথাও, এখন ব্যক্তিগতই থাক।

প্রতীক উর বলতে বাম রাজনীতিতে নাম উঠে আসে সৃজনেরও। বন্ধুর পর কি দল ছাড়বেন সৃজনও? তৃণমূলে কি ভোটের আগে তিনিও?

সৃজন: যাঁরা এই আলোচনা ভাসিয়ে দিচ্ছেন, তাঁরা হয় অর্বাচীন, নাহয় শয়তান।