আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বাস করাই বড় ভুল হল৷ খুনের দায়ে ১৫ বছর জেল খেটে ফেরার পর মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছিলেন তাঁরাই। যাঁকে ‘গুরু ভাই’ বলে বিশ্বাস করেছিলেন, তাঁর হাতেই প্রাণ গেল ৪৫ বছরের এক গৃহবধূর। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। অভিযোগ, দুর্গাবাই কুশওয়াহাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করেছে অভিযুক্ত। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আত্মঘাতী হন প্রীতম কুশওয়াহা।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রীতম আগে নিজের তিন সন্তানকে খুনের দায়ে জেলে ছিলেন। জেল থেকে বেরিয়ে বছরখানেক আগে তিনি দুর্গাবাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ইদানীং বাড়িটি খালি করা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চরম বিবাদ শুরু হয়েছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাবাই ও তাঁর স্বামী সম্প্রতি প্রীতমকে ঘর ছেড়ে দিতে বলায় প্রায়ই অশান্তি হত। রেগে গিয়ে মাঝেমধ্যেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করতেন প্রীতম, দিতেন আত্মহত্যার হুমকিও।
সোমবার দুর্গাবাইয়ের স্বামী ও ছেলে বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে প্রীতম তাঁকে বাইরে পরিষ্কার করার কথা বলে ডেকে নিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুর্গাবাইয়ের ওপর চড়াও হন তিনি। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। বুকে নয় বার, পেটে তিন বার এবং গলায় এক বার কোপ বসিয়েছিলেন আততায়ী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রৌঢ়ার।
ঘটনার কিছু সময় পরই রেললাইনের ধারে প্রীতমের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহ করেছে। খুনের নেপথ্যে ঘর খালি করার বিবাদ নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, খাস আদালত কক্ষেই বিচারককে খুনের চেষ্টা! রায়ে পছন্দ না হওয়ায় বিচারকের দিকে সরাসরি কাটারি ছুড়ে মারলেন এক ব্যক্তি। সোমবার তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার শ্রীবিল্লিুপুত্তুর ফ্যামিলি কোর্টে এই নজিরবিহীন ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা পেয়েছেন বিচারক।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম বালামুরুগান। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। ওই দিন ফ্যামিলি কোর্টের স্থায়ী বিচারক না থাকায় মামলার শুনানি করছিলেন পিওসিআর আদালতের বিচারক সুধাকর। তিনি রায় ঘোষণা করতেই মেজাজ হারান বালামুরুগান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের সঙ্গে আনা একটি কাটারি তিনি বিচারকের আসন লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন।
অস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বিচারক সুধাকর অক্ষত আছেন। তবে এই ঘটনায় আদালত চত্বরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তড়িঘড়ি এসে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। আদালত কক্ষের নিরাপত্তা এড়িয়ে কীভাবে তিনি অস্ত্র নিয়ে ঢুকলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
