আজকাল ওয়েবডেস্ক: দু'বছর আগে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ছেলে। সেই মৃত্যুশোক আর বেশিদিন সহ্য করতে পারল না পরিবার। ছেলের মৃত্যুর বছর দুয়েক পরেই দম্পতির ভয়ঙ্কর পরিণতি। গলায় ফাঁস লাগিয়ে একসঙ্গে আত্মঘাতী হলেন বাবা-মা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে ছত্তিশগড়ে। মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, ধরদেই এলাকায় নিম গাছের ডাল থেকে এক দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গলায় শাড়ির ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁরা। মৃতেরা হলেন, কৃষ্ণ প্যাটেল ও রমা বাই।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, জঞ্জগীর-চম্পা জেলার শিবনারায়ণ থানার অন্তর্গত এলাকায় সাতসকালে স্থানীয়রাই গাছে দম্পতির ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। কেউ ডুকরে কেঁদে ওঠেন। কেউ স্থবির হয়ে দেখেন দৃশ্যটি। আত্মঘাতী হওয়ার আগে চার পাতার সুইসাইড নোট ও একটি ভিডিওবার্তা রেখে গেছেন দম্পতি।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে তাঁদের একমাত্র ছেলে ২১ বছরের আদিত্য প্যাটেলের মৃত্যু হয়েছিল দুর্ঘটনায়। মন্দিরে যজ্ঞ করতে যাওয়ার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। সুইসাইড নোটে দম্পতি লিখেছেন, 'একমাত্র ছেলেই আমাদের সব ছিল। ওঁর জন্য বাড়িতে হুল্লোড় ছিল। শান্তি ছিল। ওঁ চলে যাওয়ার পর আমরা প্রাণে বেঁচে আছি। কিন্তু আর বাঁচতেও পারছি না। আমরা যদি আর বেঁচে না থাকি, তাহলে চিন্তা করবেন না। এরপর আমরা শান্তিতেই থাকব।'
পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুশোক সইতে না পেরেই দম্পতি চরম পদক্ষেপ করেছে। ময়নাতদন্তেও জানা গেছে, গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁরা। নিম গাছের পাশেই একটি পাঁচিল ছিল। সম্ববত সেই পাঁচিলে উঠেই গাছে উঠেছিল দম্পতি। রাতের অন্ধকারেই নিশ্চুপে এই পদক্ষেপ করে।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর পরেই দম্পতির আচরণ বদলে গিয়েছিল। কারও সঙ্গে খুব বেশি কথা বলত না। খুব কম সময়েই তাদের হাসতে দেখা যেত। চরম পদক্ষেপ করার আগে দম্পতি ভিডিওবার্তায় আইনজীবীকে জানিয়েছে, ছেলের মৃত্যুর পর যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা, তা যেন তাঁর দুই দাদার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কোনও আইনি জটিলতা না করার বার্তা দিয়েছেন তাঁরা।
