আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদিত এবং ইরানের সঙ্গে যুক্ত তিনটি ট্যাঙ্কার বা তৈলবাহী জাহাজ চলতি মাসে আটক করল ভারত। এমনটাই জানা গিয়েছে এক সূত্র মারফত।
একই সঙ্গে অবৈধ তেলের ব্যবসা রুখতে দেশের সামুদ্রিক এলাকাজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স সম্পর্কে।
তবে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি দাবি করেছে, আটক করা জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করা হয়।
যদিও পোস্টটি পরে মুছে দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই তিনটি তৈলবাহী জাহাজ স্টেলার রুবি, অ্যাসফাল্ট স্টার এবং আল জাফজিয়া উপকূলরক্ষী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে ঘন ঘন নিজেদের পরিচয় বদল করছিল।
এই জাহাজগুলির মালিক বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। সূত্রের মতে, সমুদ্রের মাঝখানে জাহাজ থেকে জাহাজে (শিপ-টু-শিপ) তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে কার্গোর উৎস গোপন করতে চায় অনেকেই।
নয়াদিল্লির বক্তব্য, এই ধরনের কোনও কাজ যেন ভারতের জলসীমার মধ্যে না হয়। জানা গিয়েছে, এই পদ্ধতি প্রায়ই নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং তেলের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে ব্যবহৃত হয়।
তবে এই জাহাজ আটকের ঘটনাটি এমন একটা সময়ে ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটনের তরফে ঘোষণা করা হয়, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধে সম্মতি দেওয়ায় ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত হওয়ার পর মুম্বই থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে জাহাজ তিনটিকে আটক করা হয়।
পরে সেগুলোকে তদন্তের জন্য মুম্বই বন্দরে নিয়ে আসা হয় বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আটক জাহাজ বা তাদের তেলের সঙ্গে ইরান সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
সূত্রের দাবি, জাহাজ আটক হওয়ার পর থেকে ভারতীয় কোস্ট গার্ড নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫৫টি জাহাজ ও ১০ থেকে ১২টি বিমান ভারতের সামুদ্রিক এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অধীন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল গত বছর গ্লোবাল পিস, চিল ১ এবং গ্লোরি স্টার ১ নামে তিনটি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
জানা গিয়েছে, ভারতের তরফে যে তিনটি জাহাজ আটক করা হয়েছে তাদের আইএমও নম্বর ওই জাহাজগুলির সঙ্গে মিলে গিয়েছে। শিপিং তথ্য সংস্থা এলএসইজি-র তথ্য অনুযায়ী, আটক তিনটির মধ্যে দুটি জাহাজের ইরানের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে।
আল জাফজিয়া ২০২৫ সালে ইরান থেকে জিবুতি-তে জ্বালানি তেল বহন করেছিল। স্টেলার রুবি ইরানের পতাকা বহন করেছে। তবে আর একটি জাহাজ অর্থাৎ অ্যাসফাল্ট স্টারকে মূলত চীনের রুটে চলাচল করতে দেখা গিয়েছে।
