আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ করবেন বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেদিনই শপথ নেবেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। কিন্তু বাংলাদেশে তারেকের মন্ত্রিসভার সঙ্গেই গঠিত হবে 'ছায়া মন্ত্রিসভা' বা শ্যাডো ক্যাবিনেট। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব এই ছায়া মন্ত্রিসভা তৈরির কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর তেমনটাই। আসিফ জানিয়েছেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’
কী এই ছায়া মন্ত্রিসভা বা শ্যাডো ক্যাবিনেট? কী কাজ তাদের?
তথ্য, ব্রিটেনের ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে এই ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা এসেছে।
কারা তৈরি করে এই ছায়া মন্ত্রিসভা?
তৈরি কররে সেই দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল।
কী কাজ তাদের?
ছায়া মন্ত্রিসভার মূল কাজ সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা করা। অনেক সময়, ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারকে বিকল্প ভাবনা দিয়ে থাকে। সূত্রের খবর, ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্রিটেনে, এক একজনকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। তথ্য, ব্রিটেনে, ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়মিতভাবে সরকারি কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংসদে মন্ত্রীদের প্রশ্ন করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন। একইভাবে, অস্ট্রেলিয়ায়, ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারি সিদ্ধান্ত যাচাই-বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি ছায়া মন্ত্রিসভা কেবল সমালোচনার হাতিয়ার নয়। এটি বিরোধী নেতাদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করে, যা দলীয় সদস্যদের প্রশাসনিক কাঠামো, বাজেট এবং নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেয় এবং এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভবিষ্যতের শাসনব্যবস্থার জন্য তাদের প্রস্তুত করে।
একটি সুসংগঠিত ছায়া মন্ত্রিসভা বিরোধী দলগুলিকে জনসাধারণের কাছে নিজেদের দায়িত্বশীল এবং শাসন করার জন্য প্রস্তুত হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম করে। এতে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমানে বিরোধীদের একটি ভাবমূর্তিও তৈরি হয়।
কী হতে পারে, যদি বাংলাদেশে শ্যাডো ক্যাবিনেট হয়?
যদিও এর আগে, পদ্মাপারে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোতে এই ধরনের সংস্থা গঠনের বাধ্যবাধকতাও নেই। তবুও, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে জোর দিয়ে আসছেন এই বিষয়ে। তাঁদের মতে, ছায়া মন্ত্রিসভা প্রতিষ্ঠা সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রা কী মনে করছেন এই বিষয়ে? তাঁদের মতে, ছায়া মন্ত্রিসভা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, এই ধরনের কাঠামো ক্রমশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন সরকারি নীতিমালা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
জামায়াত নেতা শিশির মনির এবং এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর এই শ্যাডো ক্যাবিনেট নিয়ে জোর চর্চা।
