বেশ পেট ভরে খাবার খেলেন। কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই আবার খিদে পেয়ে গেল! আপনার কি প্রায়ই এমনটা হয়? যা মোটেই স্বাভাবিক নয়। অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। যার ফলে শুধু ওজনই বাড়ে না, মানসিক চাপও হানা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনেই থাকতে পারে ‘ফুড নইস’। যা মস্তিষ্কের সেই অভ্যন্তরীণ সংকেত যা বারবার খাবারের চাহিদা মনে করিয়ে দেয়। এটি মানসিক ও শারীরিক দুটি কারণে হতে পারে। এটির মস্তিষ্কে চলমান খাদ্য সংক্রান্ত সংকেতগুলোরও বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, 'ফুড নইস' মানে শুধু খাবারের অভাব নয়। এটি মস্তিষ্কের ভেতরের সংকেত যা আমাদের বারবার খেতে প্ররোচিত করে।
ফুড নইসের কারণ কী
*হরমোনের ভারসাম্যহীনতাঃ খিদে ও তৃপ্তি মূলত হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। ঘ্রেলিন হরমোন ক্ষুধা বাড়ায়, আর লেপ্টিন হরমোন তৃপ্তি বোঝায়। হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে ক্ষুধা বারবার ফিরে আসে।
আরও পড়ুনঃ ওজন বাড়লে শুধু শরীর নয়, ত্বকেও প্রভাব পড়ে! জানেন চামড়ায় কোন মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়?
২. মানসিক ও আবেগগত প্রভাবঃ স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা বা বিরক্তি আমাদের ‘কমফোর্ট ফুডের’ প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। মানসিক চাপের সময়ে আমরা খাবারের মাধ্যমেই স্বস্তি খুঁজে পাই।
৩. পরিবেশগত প্রভাবঃ রঙিন খাবারের ছবি, টিভি বিজ্ঞাপন, সোশ্যাল মিডিয়ার খাবারের পোস্ট বা ঘ্রাণ মস্তিষ্ককে বারবার খিদের অনুভূতি দেয়। ফলে আপনি আসল খিদে না থাকলেও বারবার খাবারের দিকে আকৃষ্ট হন।
ফুড নইস কমানোর কার্যকর উপায়
১. নিয়মিত ও পরিকল্পিত খাবার সময়সূচিঃ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেলে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে। দুটি ভারী খাবারের মাঝে হালকা স্ন্যাকস খিদে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২. প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারঃ প্রোটিন ও ফাইবার দীর্ঘ সময় তৃপ্তি বজায় রাখে। তাই ডায়েটে প্রোটিন, ফাইবারের পরিমাণ বাড়ান। ডিম, মুরগির মাংস, ডাল, বাদাম, শাক-সবজি ইত্যাদি খাবার ভাল বিকল্প।

৩. পর্যাপ্ত জল পানঃ অনেক সময় শরীর জল চায়, কিন্তু আমরা তা খিদে বলে মনে করি। তাই পর্যাপ্ত জল খান। দিনে ৮–১০ গ্লাস জল পান করুন।
৪. মাইন্ডফুল ইটিংঃ খাবার খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল থেকে মন সরান। ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খেলে মস্তিষ্ক তৃপ্তি সংকেত পায়।
৫. স্ট্রেস কমানোঃ ধ্যান, যোগ বা হালকা ব্যায়াম মানসিক চাপ কমায়। কম স্ট্রেস মানে কম আবেগগত ক্ষুধা। তাই মানসিক চা নিয়ন্ত্রণ করুন।
৬. পরিবেশ নিয়ন্ত্রণঃ ফুড বিজ্ঞাপন, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট বা রঙিন খাবারের দৃশ্য এড়িয়ে চলুন। রান্নাঘর বা ডাইনিং-এর জায়গায় শুধুমাত্র খাবারের জন্য ব্যবহার করুন।
ফুড নইস চেনার উপায়
*খাওয়ার ঠিক পরে আবার ক্ষুধা বোধ করা
*কম খেয়ে তৃপ্ত না হওয়া
*মানসিক চাপ বা বিরক্তিতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা
*বিজ্ঞাপন বা খাবারের ছবি দেখেই খাবারের প্রতি আকর্ষণ
