প্রস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন ক্যানসারগুলির একটি। প্রস্টেট হল একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রথলির ঠিক নিচে থাকে এবং পুরুষদের প্রজনন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রন্থিতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ রোগটি যদি প্রথম দিকে ধরা পড়ে তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সমস্যা হল, অনেকেই প্রাথমিক লক্ষণগুলিকে সাধারণ বয়সজনিত সমস্যা বা মূত্রনালির সংক্রমণ ভেবে এড়িয়ে যান। তাই শরীরের কিছু পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা খুবই জরুরি।

১. বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়াঃ যদি দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। প্রস্টেট বড় হয়ে গেলে মূত্রনালির ওপর চাপ পড়ে। ফলে বারবার প্রস্রাবের বেগ হতে পারে। যদিও ডায়াবেটিস বা অন্য কারণেও এমন হতে পারে, তবুও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২. প্রস্রাব করতে কষ্ট হওয়াঃ প্রস্রাব শুরু হতে দেরি হওয়া, খুব ধীরে প্রস্রাব বের হওয়া, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা মাঝপথে থেমে যাওয়া, এসবই প্রস্টেটের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। অনেকেই বয়সের দোষ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘদিন এমন হলে অবশ্যই পরীক্ষা করান।

৩. প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত দেখাঃ প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত বের হলে সেটিকে কখনওই স্বাভাবিক বলে ধরে নেবেন না। এটি সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর বা প্রস্টেট ক্যানসার, যে কোনও গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

৪. কোমর, নিতম্ব বা পেলভিসে দীর্ঘদিন ব্যথাঃ কোনও আঘাত ছাড়াই যদি কোমরের নিচে, নিতম্বে বা পেলভিসে দীর্ঘদিন ব্যথা থাকে এবং তা কমতে না চায়, তাহলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে এই ধরনের ব্যথা দেখা দিতে পারে।

৫. যৌন সমস্যাঃ হঠাৎ ইরেকশন ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া, বীর্যপাতের সময় ব্যথা অনুভব করা বা যৌনক্ষমতায় পরিবর্তন আসাও প্রস্টেটের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। লজ্জা বা সংকোচের কারণে এই বিষয়গুলি লুকিয়ে না রেখে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করা উচিত।

কারা বেশি ঝুঁকিতে? ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ, পরিবারে বাবা বা ভাইয়ের প্রস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে, স্থূলতা, ধূমপান এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? উপরের লক্ষণগুলির কোনওটি যদি টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে পিএসএ (প্রস্টেট-স্টেশিফিক অ্যান্টিজেন) রক্ত পরীক্ষা, ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা (ডিআরই), আল্ট্রাসাউন্ড, এমআরআই বা বায়োপসির মতো পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা হয়। 

মনে রাখবেন, এই লক্ষণগুলি থাকলেই যে প্রস্টেট ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। তবে এগুলি অবহেলা করলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হতে পারে। তাই শরীরের অস্বাভাবিক কোনও পরিবর্তন দেখলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।