তরুণীদের মধ্যে যৌনাঙ্গের সংক্রমণ এবং যৌনবাহিত রোগের (STI) ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে সতর্ক করলেন বেঙ্গালুরুর স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দীপা নাম্বিয়ার। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি জানান, তাঁর চেম্বারে প্রতিদিনই 
কমবয়সি তরুণীরা বিভিন্ন ধরনের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আসছেন। চিকিৎসকের মতে, অসচেতনতা, অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্ক এবং যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

ডা. নাম্বিয়ারের কথায়, ১৯-২০ বছর বয়সি অনেক তরুণী পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID), বিভিন্ন ধরনের যৌনাঙ্গের সংক্রমণ এবং জেনিটাল হারপিস-এর মতো সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য আসছেন।সময়মতো চিকিৎসা না করালে এসব সংক্রমণ ভবিষ্যতে প্রজনন ক্ষমতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

চিকিৎসকের বক্তব্য, সম্পর্ক গড়ে তোলার আগে বা যৌনজীবনে প্রবেশের সময় আবেগের বশে বা বন্ধুদের চাপে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বরং সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিরাপদ যৌন আচরণ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বিশেষভাবে কন্ডোম বা অন্যান্য উপযুক্ত সুরক্ষা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, সামান্য সচেতনতাই ভবিষ্যতে অনেক শারীরিক, মানসিক এবং আবেগজনিত সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। পাশাপাশি যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনও সমস্যা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে লজ্জা না পেয়ে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কোন লক্ষণগুলি অবহেলা করবেন না?

অস্বাভাবিক যোনিপথের স্রাব
দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব
যৌনাঙ্গে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া
তলপেটে ব্যথা
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
যৌনমিলনের সময় ব্যথা
যৌনাঙ্গে ঘা, ফুসকুড়ি বা ফোস্কা

এই ধরনের উপসর্গ সবসময় যৌনবাহিত সংক্রমণের কারণে নাও হতে পারে, তবে সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরীক্ষা প্রয়োজন। কিছু সংক্রমণের ক্ষেত্রে শুরুতে কোনও লক্ষণও নাও থাকতে পারে।

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন?

সবসময় নিরাপদ যৌন আচরণ মেনে চলুন।
কন্ডোম ব্যবহার করুন।
একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
কোনও উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে লজ্জা বা সংকোচ না করে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।
ডা. নাম্বিয়ারের বার্তা স্পষ্ট— "নিজের যৌনজীবন সম্পর্কে দায়িত্বশীল হোন। সামান্য অসচেতনতা ভবিষ্যতে বড় শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে। প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়।"