মুখের স্বাস্থ্য ভাল রাখা মানে কেবল দাঁত ঝকঝকে রাখা নয়, এটি আমাদের সার্বিক সুস্থতার একটি আয়না। অনেক সময় মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া বা মুখের ভেতরের ছোটখাটো সমস্যাকে আমরা অবহেলা করি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, মুখের ভেতরের কিছু সাধারণ লক্ষণ আসলে শরীরের বড় কোনও লুকিয়ে থাকা রোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। তেমনই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
অনবরত মুখের দুর্গন্ধঃ নিয়মিত দাঁত মাজার পরেও যদি মুখ থেকে অনবরত দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস-এর সমস্যা না কমে, তবে বুঝতে হবে এটি মাড়ির প্রদাহের লক্ষণ। মাড়ির এই ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং প্রদাহের সংকেতগুলো রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শরীরের রক্তনালীতে প্রবেশ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাড়ির দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সঙ্গে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ার সরাসরি সংযোগ রয়েছে।
শুষ্ক মুখ এবং মাড়ি শুকাতে সময় লাগাঃ যদি আপনার মুখের ভেতরের কোনও ক্ষত বা মাড়ির সমস্যা সহজে সারতে না চায় এবং সেই সঙ্গে ঘন ঘন মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে, তবে অবিলম্বে রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত। ডায়াবেটিসের কারণে সাধারণত লালা উৎপাদন কমে মুখ শুকিয়ে যায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক না থাকলে মাড়ির সংক্রমণ আরও বেড়ে যায়।
মাড়ির ফোলাভাব ও ক্লান্তিঃ শরীরে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলে মাড়ি ফুলে যেতে পারে। যদি শরীরে সারাক্ষণ ক্লান্তি ও দুর্বলতার পাশাপাশি মাড়ি দিয়ে ঘন ঘন রক্ত পড়ে, তবে তা মূলত শরীরের টিস্যু মেরামত ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবকে নির্দেশ করে।
সহজেই কালশিটে পড়া এবং রক্তপাতঃ মাড়ি থেকে অনবরত রক্ত পড়ার পাশাপাশি যদি সামান্য আঘাতেই শরীরে কালশিটে পড়ে কিংবা ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা রক্তজনিত কোনও গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মাড়ি পিছিয়ে যাওয়া ও মুখে ধাতব স্বাদঃ দাঁতের গোড়া থেকে মাড়ি আলগা হয়ে পিছিয়ে যাওয়া এবং মুখে সারাক্ষণ একটা তিতকুটে বা ধাতব স্বাদ পাওয়া ক্রনিক পেরিওডন্টাল ডিজিজ বা মাড়ির মারাত্মক ইনফেকশনের লক্ষণ। মুখের এই সংক্রমণ দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং হৃৎপিণ্ড, কিডনি ও মেটাবলিক ফাংশনের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
আমাদের শরীর যে কোনও বড় রোগের আগে কিছু সূক্ষ্ম সংকেত পাঠায়। তাই মুখের স্বাস্থ্যকে অবহেলা না করে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে ভবিষ্যৎ-এর বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।














