সোশ্যাল মিডিয়ায় স্রেফ কটা ‘ভিউ’ আর ‘লাইক’ পাওয়ার অন্ধ মোহে মানুষ কতটা নীচে নামতে পারে, তার এক চরম নোংরা ও ভয়ঙ্কর নিদর্শন দেখল নেটদুনিয়া। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের শেয়ার করা কয়েকটি ‘প্র্যাঙ্ক’ ভিডিও ঘিরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মজার ছলে কন্টেন্ট বানাতে গিয়ে জনসমক্ষে সাধারণ মানুষের গায়ে তরল দাহ্য পদার্থ ঢেলে জ্যান্ত আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক অপরাধমূলক কাজ করতে দেখা গেছে ওই তরুণীকে! এই বিকৃত মানসিকতার ভিডিওটি ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ভাইরাল হওয়া ওই মারাত্মক ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার ধারে ফুটপাতে এক অসহায় ব্যক্তি নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলেন। আচমকাই ‘সিমরান ভ্লগ’  নামের ওই ইনস্টাগ্রাম পেজের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তরুণী ওঁর কাছে এগিয়ে যান। এরপর ওঁর জামাকাপড়ে এক ধরণের দাহ্য তরল পদার্থ ঢেলে দিয়ে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন এবং নিজে হাসতে হাসতে চম্পট দেন!

মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে ওই ঘুমন্ত ব্যক্তির প্যান্টে। তীব্র মরণ-যন্ত্রণায় ও আতঙ্কে ধড়ফড় করে জেগে ওঠেন ওই ব্যক্তি। আগুনে ওঁর শরীর তখন জ্বলছে, আর তিনি প্রাণভয়ে ফুটপাতে পাগলের মতো লাফাতে লাফাতে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

 

?utm_source=ig_web_button_share_sheet

 

উন্মাদনার এখানেই শেষ নয়! ওই পেজে থাকা অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে লাঠিতে ভর দিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ওই তরুণী পেছন থেকে এসে ওঁর ব্যান্ডেজ বাঁধা পায়েও তরল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়! যন্ত্রণায় ও আতঙ্কে ওই পঙ্গু মানুষটি এক পায়ে লাফাতে লাফাতে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, আর আশেপাশের পথচারীরা স্তম্ভিত হয়ে এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখতে থাকেন।

ভিডিওগুলি স্ক্রিপ্টেড বা সাজানো হলেও, এ ধরনের বিপজ্জনক ও অমানবিক বিষয়কে ‘বিনোদন’ হিসেবে পরিবেশন করার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নেটিজেনরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা ওই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভিডিওর কমেন্ট বক্সে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে -
এক নেটিজেন লিখেছেন, “এটা কোন ধরনের রসিকতা? এটা তো অপরাধ! ওঁর অবিলম্বে জেল হওয়া উচিত।”

আরেকজন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন: “এভাবে কেউ মজা করে? পুরো মানুষটা পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারত! এই মেয়েটা যদি বাসে উঠে যেত আর বাসে আগুন লেগে যেত, কত বড় দুর্ঘটনা ঘটত ভেবে দেখেছেন? পুলিশ ওঁর নামে এফআইআর করে জেলে পুরুক।”

অনেকেই কলকাতা পুলিশ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে ট্যাগ করে লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, আপনারা কি ঘুমাচ্ছেন? এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনও দিন কারও বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। একে অবিলম্বে অ্যারেস্ট করুন।”

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, পরিকল্পিতভাবে কারও শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করার চেষ্টা, জনজীবনে অশান্তি ছড়ানো এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় ওই তরুণীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র কড়া ধারায় মামলা রুজু করা উচিত। ইন্টারনেটকে সস্তা বিনোদনের আখড়া বানাতে গিয়ে এই ধরণের ‘খুনে প্র্যাঙ্ক’ যে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, সেই বার্তা প্রশাসন কখন দেয়, এখন সেটাই দেখার।