একটি আমের জন্য কৃষক পাহারার ব্যবস্থা করেছেন, রয়েছে সিসিটিভি, তবু রাতে ঘুম নেই কৃষকের। কী এমন আছে এই আমে? বাঙালির হেঁশেলে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলির পাশে এবার নতুন এক নাম যোগ হয়েছে, ‘মিয়াজ়াকি’। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি আম।এক জোড়া আমের দাম ছুঁয়ে যায় ৩-৪ লক্ষ টাকা। সম্প্রতি ওড়িশার এক চাষি এই মূল্যবান আমকে চুরির হাত থেকে বাঁচাতে যা করেছেন, তা ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ কেউ মজা করেই বলছেন — “এ আম নয়, যেন গৃহবন্দি রত্ন!”


মিয়াজ়াকি আমের জাপানি নাম ‘তাইয়ো নো তামাগো’ — অর্থাৎ ‘সূর্যের ডিম’। পাকা অবস্থায় এই আমের গায়ে ফুটে ওঠে গাঢ় লাল-বেগুনি রঙ; ভিতরের কমলা শাঁস তন্তুহীন, মধুর মতো মিষ্টি, মাখনের মতো মসৃণ। চিনির পরিমাণ অন্তত ১৫ ব্রিক্স, ওজনে ৩৫০ গ্রামের বেশি — তবেই মেলে ‘তাইয়ো নো তামাগো’ খেতাব। 

প্রতিটি আম বেড়ে ওঠে ছোট ছোট সাদা জালের মধ্যে, যাতে রোদ সমান পড়ে আর মাটিতে পড়ে আঘাত না লাগে। জাপানের নিলামে কোনও কোনও বছর এক জোড়া আম বিক্রি হয়েছে ৩০ লক্ষ ইয়েন-এও।

ভারতে কীভাবে এল

দেশের নানা প্রান্তে কয়েকজন উদ্যোগী চাষি এই আমের চারা এনে রোপণ করেছেন। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের সঙ্কল্প ও রাণি পরিহার ১৫০টি গাছ লাগিয়েছেন; পাহারায় ন’টি কুকুর ও তিনজন প্রহরী। তেলেঙ্গানার সুমনবাঈ গায়কওয়াড় ফিলিপিন্স থেকে চারা এনে ফল ফলিয়েছেন। 


সম্প্রতি সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন ওড়িশার এক চাষিও। ওড়িশার ওই চাষির অভিযোগ — গাছের চারপাশে ঘিরে রেখেছেন নিরাপত্তাকর্মী, কুকুর, এমনকি সিসিটিভি ক্যামেরাও। রাতে নিজেও পাহারায় বসেন। তবু ঘুম আসে না। কারণ একটি আম গেলেই লাখ-লাখ টাকার ক্ষতি। চাষের বেশির ভাগ লাভই হয়তো এসে পৌঁছবে পাহারার খরচ মেটাতে, এই আশঙ্কাও কম নয়।


বীরভূমের রাজনগর থানার কানমোড়া গ্রামের কৃষক মান্নান খান কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে আনা চারা থেকে মিয়াজ়াকি আম ফলিয়েছিলেন। দু’শো-রও বেশি আম ধরা সেই গাছকে চোরের নজর থেকে বাঁচাতে স্থানীয় থানার সাহায্যও চেয়েছিলেন তিনি।