কেউ সামনে হাই তুলল, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনারও হাই চলে এল, এমন অভিজ্ঞতা প্রায় সকলেরই হয়েছে। অনেকেই মনে করেন এটি শুধুই কাকতালীয় ঘটনা। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের এক আকর্ষণীয় প্রক্রিয়া, যাকে বলা হয় 'কনটেজিয়াস ইয়নিং' বা সংক্রামক হাই।
গবেষকদের মতে, অন্য কাউকে হাই তুলতে দেখলে, এমনকী হাই তোলার কথা শুনলে বা ছবিতে দেখলেও অনেকের হাই পেতে পারে। সাধারণত ৪-৫ বছর বয়সের পর এই প্রবণতা দেখা যায় এবং এটি মানুষের সামাজিক আচরণ ও সহানুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আমাদের মস্তিষ্কে থাকা মিরর নিউরন সিস্টেম এই ঘটনার অন্যতম কারণ। এই বিশেষ স্নায়ুকোষ অন্যের কাজ বা অভিব্যক্তি দেখলে সেটি অনুকরণ করার প্রবণতা তৈরি করে। ফলে সামনে কেউ হাই তুললে আমাদের মস্তিষ্কও একই প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
এছাড়াও, যাদের সঙ্গে আমাদের মানসিক সম্পর্ক বেশি যেমন পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা কাছের মানুষ তাঁদের হাই তুলতে দেখলে আমাদের হাই পাওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি থাকে। এটি মানুষের আবেগগত সংযোগেরও একটি ইঙ্গিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে সকলেই কিন্তু সংক্রামক হাইয়ের শিকার হন না। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ছোট শিশু, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি বা কিছু স্নায়বিক সমস্যায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়।
অনেক দিন ধরেই ধারণা ছিল, শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে হাই ওঠে। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, এই তত্ত্বের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বরং হাই তোলা মস্তিষ্ককে সতর্ক রাখা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঘুম-জাগরণের ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তাই পরেরবার কেউ আপনার সামনে হাই তুললে আর আপনিও হাই তুলে ফেললে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটি অলসতার লক্ষণ নয়, বরং মানুষের মস্তিষ্ক, সামাজিক আচরণ এবং আবেগের মধ্যে থাকা সূক্ষ্ম সংযোগেরই একটি স্বাভাবিক প্রকাশ।
















