লিভার আমাদের শরীরের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়, খাবার হজমে সাহায্য করে, এনার্জি জমিয়ে রাখে এবং শরীরের নানা রাসায়নিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু সমস্যা হল, লিভার খারাপ হতে শুরু করলেও অনেক সময় প্রথম দিকে তেমন স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো এতটাই সাধারণ হতে পারে যে সহজে বোঝাই যায় না।

লিভার বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ছোট ছোট পরিবর্তনই লিভারের রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। 

সবসময় ক্লান্ত লাগাঃ অনেক মহিলাই ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ বা ঘুম কম হওয়ার কারণে ক্লান্তি অনুভব করেন। কিন্তু যদি পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও সারাক্ষণ দুর্বল লাগে, শরীরে এনার্জি না থাকে বা ছোট কাজেও হাঁপিয়ে যান, তাহলে সেটা লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। লিভার ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে টক্সিন জমে যায়, ফলে ক্লান্তি বাড়তে থাকে।

চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়াঃ লিভারের সমস্যার একটি পরিচিত লক্ষণ হল জন্ডিস। তবে শুরুতে তা খুব হালকা হতে পারে। অনেক সময় চোখের সাদা অংশ একটু হলদে দেখায় বা ত্বকের রং ফ্যাকাশে লাগে। লিভার ঠিকমতো বিলিরুবিন নামের পদার্থ ভাঙতে না পারলে এই সমস্যা হয়।

পেটের ডানদিকে ব্যথা বা অস্বস্তিঃ লিভার পেটের ডানদিকে থাকে। তাই সেখানে ভারী লাগা, চাপ অনুভব করা বা ব্যথা হলে তা গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অনেকে এটিকে গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা বদহজম ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি বারবার এমন হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

পা বা পেট ফুলে যাওয়াঃ লিভারের সমস্যা হলে শরীরে জল জমতে শুরু করতে পারে। এর ফলে পা ফুলে যাওয়া, পেট বড় লাগা বা হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় জামাকাপড় টাইট লাগতেও শুরু করে।

ত্বকে চুলকানি বা সহজে কালশিটে পড়াঃ কারণ ছাড়াই শরীরে চুলকানি হওয়া বা সামান্য আঘাতেই কালশিটে পড়ে যাওয়া লিভারের অসুখের লক্ষণ হতে পারে। লিভার খারাপ হলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া ঠিকভাবে কাজ করে না। ফলে ত্বকে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপসর্গগুলিকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় ফ্যাটি লিভার, হেপাটাইটিস বা লিভার সিরোসিসের মতো রোগ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে রক্ত পরীক্ষা, লিভার ফাংশন টেস্ট বা আল্ট্রাসাউন্ড করানো প্রয়োজন।

সঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়লে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, সঠিক খাবার এবং চিকিৎসার মাধ্যমে লিভারকে অনেকটাই সুস্থ রাখা সম্ভব।