প্রতি বছর বজ্রপাতে বহু মানুষ প্রাণ হারান। ইদানীং বৃষ্টি হলে বাজ পড়ার সংখ্যাও বেড়েছে৷ বিপদ আসার আগেই সতর্ক হওয়া জরুরি৷ আকাশে কালো মেঘ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকালে  সতর্ক হয়ে যান। প্রথমেই খোলা জায়গা থেকে সরে নিরাপদ আশ্রয় নিতে হবে। পাকা বাড়ি, বড় বিল্ডিং বা বন্ধ গাড়ি বজ্রপাতের সময় তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা। তবে ঝুপড়ি, অস্থায়ী ঘর বা খোলা শেডে আশ্রয় নেওয়া ঠিক নয়।

বজ্রপাতের সময় কখনও গাছের নিচে দাঁড়াবেন না। অনেকেই বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেন, কিন্তু উঁচু গাছ বজ্র আকর্ষণ করতে পারে। 

মাঠ, নদী, পুকুর বা জলাশয়ের কাছ থেকে দ্রুত দূরে সরে আসুন। জল বিদ্যুৎ পরিবহণ করতে পারে, তাই বজ্রপাতের সময় সাঁতার কাটা, মাছ ধরা বা জলে থাকা বিপজ্জনক। একইভাবে খোলা ছাদ, বারান্দা বা উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকাও এড়িয়ে চলতে হবে।

 বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকুন। টিভি, কম্পিউটার, ফ্রিজ বা অন্যান্য যন্ত্রের প্লাগ খুলে রাখুন। চার্জে লাগানো ফোন বা তারযুক্ত যন্ত্র ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

কেন এত বাজ পড়ছে? 

গরম ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি: বর্ষার আগে বা বর্ষাকালে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে। গরম বাতাস দ্রুত ওপরে উঠে গিয়ে মেঘ তৈরি করে। এই মেঘের ভিতরে বরফকণা ও জলকণার ঘর্ষণে বেশি বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয়, ফলে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বাড়ে।

বজ্রগর্ভ মেঘ (Cumulonimbus) বেশি তৈরি হওয়া: যখন উষ্ণ ও ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষ হয়, তখন বিশাল আকারের বজ্রঝড়ের মেঘ তৈরি হয়। এই মেঘ থেকেই সবচেয়ে বেশি বাজ পড়ে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে অনেক জায়গায় তাপমাত্রা বাড়ছে। উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে, যা বজ্রঝড়ের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

শহরের তাপ বৃদ্ধি: শহরে কংক্রিট, গাড়ি ও বিভিন্ন উৎস থেকে তাপ বাড়ে। এই ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব স্থানীয়ভাবে মেঘ তৈরি ও ঝড়ের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।