বাড়ি যতই সুন্দর করে সাজানো হোক না কেন, যদি মেঝে নোংরা বা হলদেটে দেখায়, তাহলে পুরো সৌন্দর্যটাই নষ্ট হয়ে যায়। রোজকার ধুলো, জুতো-চপ্পলের মাটি, রান্নাঘরের তেলচিটে দাগ আর বাচ্চাদের দুষ্টুমি, সব মিলিয়ে মেঝেতে দাগ পড়েই। অনেকেই দামি ক্লিনার ব্যবহার করেন, তবুও মনের মতো ফল পান না। আসলে ঝকঝকে মেঝের জন্য সব সময় দামি জিনিস নয়, সঠিক পদ্ধতিই বেশি কার্যকর। সামান্য যত্ন আর ঠিক মিশ্রণ ব্যবহার করলে পরিষ্কার রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়। মেঝেকে নতুনের মতো ঝকঝকে রাখতে চাইলে এই সহজ টিপসগুলো কাজে লাগাতে পারেন।

নুন ও শ্যাম্পু মেশান

প্রথমে একটি বালতিতে পরিষ্কার জল নিন। এতে এক চা-চামচ সন্ধক নুন  দিন। নুন ময়লা আলগা করতে সাহায্য করে। এরপর সামান্য শ্যাম্পু মিশিয়ে দিন। শ্যাম্পুর বদলে লিকুইড হ্যান্ডওয়াশও ব্যবহার করতে পারেন। এই মিশ্রণ হালকা তেলচিটে ভাব দূর করে এবং মেঝের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এবার মোপ এই জলে ডুবিয়ে ভাল করে নিংড়ে নিয়ে পুরো মেঝেতে মুছুন। কোণা ও বেশি নোংরা জায়গায় একটু বেশি মনোযোগ দিন। এতে দুর্গন্ধও কমে এবং মেঝে সতেজ দেখায়। সপ্তাহে দু’বার এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে হলদেটে ভাব জমার সম্ভাবনা কম থাকে।

একগুঁয়ে দাগের জন্য বেকিং সোডার পেস্ট

মেঝেতে যদি পুরনো দাগ থেকে যায়, তাহলে এক কাপ জলে বেকিং সোডা মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট দাগের উপর লাগিয়ে ১৫–২০ মিনিট রেখে দিন, যাতে দাগ নরম হয়। তারপর ভেজা কাপড় বা মোপ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। রান্নাঘরের আশপাশে বা বেশি ব্যবহৃত জায়গায় এই পদ্ধতি বিশেষ কার্যকর। তবে পেস্ট পুরো শুকিয়ে যেতে দেবেন না, তাহলে পরিষ্কার করতে বেশি সময় লাগবে।

উষ্ণ গরম জলের ব্যবহার

মেঝে খুব বেশি নোংরা না হলে শুধু উষ্ণ গরম জল দিয়েই ভাল ফল পাওয়া যায়। গরম জলে মোপ করলে জমে থাকা ধুলো দ্রুত সরে যায় এবং মেঝে পরিষ্কার দেখায়। দৈনন্দিন সাফাইয়ের জন্য এটি ভাল পদ্ধতি। চাইলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন, এতে হালকা সুগন্ধও আসবে।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস

মোপ খুব বেশি ভেজা রাখবেন না, এতে জলের দাগ পড়তে পারে। প্রতিবার পরিষ্কার মোপ ব্যবহার করুন। কাঠ বা মার্বেল মেঝেতে অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করবেন না। সপ্তাহে অন্তত একবার কোণাগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করুন। সঠিক পদ্ধতিতে নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে আপনার মেঝে দীর্ঘদিন ঝকঝকে ও সতেজ থাকবে।