খাওয়ার পর একটু হাঁটার পরামর্শ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাধারণ অভ্যাসই রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের প্রিডায়াবেটিস, টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের জন্য খাবারের পর অল্প সময় হাঁটা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।


চিকিৎসকের মতে, খাবার খাওয়ার ৩০ থেকে ৯০ মিনিটের মধ্যে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সাধারণত সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময় শরীরচর্চা করলে পেশিগুলি রক্ত থেকে সরাসরি গ্লুকোজ ব্যবহার করতে শুরু করে। ফলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতাও উন্নত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারী ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। 

খাবার শেষ হওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা গতিতে হাঁটলেই সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এমনকি সময়ের অভাব থাকলেও মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিট হাঁটার ফলেও রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য মিলতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, দিনে একবার ৩০ মিনিট হাঁটার চেয়ে প্রতিটি প্রধান খাবারের পর ১০ মিনিট করে হাঁটা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে বেশি কার্যকর হতে পারে।


খাওয়ার পর হাঁটার অভ্যাস শুধু রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেই নয়, হজমের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। হাঁটলে অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া বাড়ে, ফলে খাবার দ্রুত হজম হতে সাহায্য করে।অনেকের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অতিরিক্ত ভারী লাগার সমস্যাও কমে। পাশাপাশি খাওয়ার পর যে ঝিমুনি বা এনার্জি ক্র্যাশ অনুভূত হয়, সেটিও কম হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার শেষ করার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, অর্থাৎ প্রথম ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই হালকা হাঁটা সবচেয়ে উপকারী। তবে হাঁটার গতি যেন আরামদায়ক হয়। দ্রুত দৌড়ানো বা উচ্চমাত্রার ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। তবে এই অভ্যাস কোনওভাবেই ডায়াবেটিসের ওষুধ, চিকিৎসা বা সুষম খাদ্যের বিকল্প নয়। 

যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা আছে, তাঁরা নতুন ব্যায়ামের অভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখা। প্রতিদিন খাবারের পর ১০-১৫ মিনিট হাঁটার মতো ছোট্ট পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে।