গুজরাতের এক সরকারি আধিকারিকের অদ্ভুত দাবি একসময় সারা দেশে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘদিন অফিসে না গিয়ে তিনি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সাধারণ মানুষ নন, ভগবান বিষ্ণুর দশম অবতার ‘কল্কি’। তাই সরকারি দায়িত্ব পালনের বদলে তিনি একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্যস্ত রয়েছেন।

ওই আধিকারিক কয়েক মাস ধরে অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর কাছ থেকে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁকে কারণ দেখানোর নোটিশ পাঠায়। সেই নোটিশের জবাবে তিনি যে ব্যাখ্যা দেন, তা শুনে সবাই অবাক হয়ে যান।

তিনি দাবি করেন, গভীর ধ্যান ও তপস্যার মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের চেতনা পরিবর্তনের কাজ করছেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, মানবজাতির উন্নতি এবং পৃথিবীতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য তাঁকে এই সাধনা চালিয়ে যেতে হবে। তাই অফিসে উপস্থিত হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়। ওই আধিকারিক আরও দাবি করেন যে তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির প্রভাবেই ভারতে ইতিবাচক শক্তি প্রসারিত হয়েছে। তিনি মনে করতেন, তাঁর ধ্যান প্রকৃতি ও পরিবেশের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকী তিনি বলেন, বহু বছর আগে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে তিনি কল্কি অবতার এবং তাঁর মধ্যে বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে।

এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টিকে মজার ঘটনা হিসেবে দেখেন এবং নানা রকম মন্তব্য করতে শুরু করেন। আবার একজন সরকারি কর্মী কীভাবে এতদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে পারেন এবং এমন ব্যাখ্যা দিতে পারেন, সেই প্রশ্নও তোলেন অনেকে। আজও এই ঘটনা ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসের অন্যতম অদ্ভুত এবং আলোচিত ঘটনাগুলির মধ্যে একটি হিসেবে মনে করা হয়।