অনেকেরই ঝাল ছাড়া খাবার খেতে ভাল লাগে না। ডাল-ভাত থেকে শুরু করে মাংস, বিরিয়ানি, ফুচকা বা চাউমিন-সব খাবারেই একটু বেশি লঙ্কা না হলে যেন স্বাদই আসে না। কিন্তু এই অভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমনই ইঙ্গিত মিলেছে।

গবেষকদের দাবি, নিয়মিত অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলে খাদ্যনালীর ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। যদিও শুধু ঝাল খাওয়ার জন্যই ক্যানসার হয়, এমনটা এখনও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

লঙ্কার ঝালের জন্য দায়ী ক্যাপসাইসিন নামের একটি উপাদান। এটি শরীরে কিছু উপকারও করে। যেমন বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা কমাতেও ব্যবহার করা হয়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে ঝাল খেলে খাদ্যনালীর ভেতরের অংশে বারবার জ্বালা বা প্রদাহ হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে কোষের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, যা ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।

তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই গবেষণা শুধুমাত্র একটি সম্ভাব্য সম্পর্ক দেখিয়েছে। অর্থাৎ ঝাল খেলেই ক্যানসার হবে, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ক্যানসারের পিছনে আরও অনেক কারণ কাজ করে। যেমন ধূমপান, মদ্যপান, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘদিনের অ্যাসিডিটি এবং পারিবারিক ইতিহাস।

খাদ্যনালীর ক্যানসারের কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে। যেমন খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া, বারবার বুক জ্বালা বা অ্যাসিডিটি, গলায় খাবার আটকে যাওয়ার অনুভূতি, দীর্ঘদিন কাশি বা গলা বসে থাকা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি। এই ধরনের সমস্যা যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, তাহলে অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 

তাহলে কি ঝাল খাওয়া একেবারেই বন্ধ করে দেবেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমিত পরিমাণে ঝাল খাওয়াই সবচেয়ে ভাল। খাবারে সবজি, ফল, গোটা শস্য ও পর্যাপ্ত জল রাখুন। পাশাপাশি ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন এবং দীর্ঘদিন অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে চিকিৎসা করান।

মনে রাখবেন, একটি গবেষণার ফল দেখে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সুস্থ থাকতে যে কোনও খাবারই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস।