আজকাল ওয়েবডেস্ক: আজকালকার ডেটিং অ্যাপের যুগে যেখানে নিজেকে সবসময় নিখুঁত, সুন্দর আর সাজিয়ে-গুছিয়ে উপস্থাপন করার একটা অলিখিত চাপ থাকে, সেখানেই এক অদ্ভুত কিন্তু দারুণ এক বদল চোখে পড়ছে। নতুন এই ট্রেন্ডের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গবলিন্টিমেসি’ (Goblintimacy)। সহজ কথায়, সম্পর্কের একেবারে শুরুর দিকেই নিজের ভেতরের সেই খামখেয়ালী, অগোছালো আর নিখুঁত নয় এমন আসল রূপটাকে লোকচক্ষুর সামনে নিয়ে আসা। প্রথম ডেটেই আতুপুতু রাজপুত্তুর বা রাজকন্যা সেজে থাকার ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে নিজের খামতিগুলোকে লুকিয়ে না রাখার যে তাগিদ, সেটাই এখনকার তরুণ প্রজন্মের অনেকের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

আসলে সোশাল মিডিয়া আর ডেটিং প্রোফাইলের ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের একটা ‘ব্র্যান্ড’ হিসেবে তুলে ধরতে গিয়ে ক্লান্ত। সেখানে দাঁড়িয়ে এই নতুন ভাবনাটি মূলত পারফেকশনের চেয়ে রিয়্যালিটিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। সারাক্ষণ নিজেকে সেরা দেখানোর এই পারফরম্যান্স কালচার থেকে মুক্তি পেতেই মানুষ এখন প্রথম থেকেই অনেক বেশি সৎ থাকতে চাইছে। যদি ভবিষ্যতে কোনও  মানুষের সাথে জীবন কাটাতেই হয়, তবে সে আপনার অগোছালো ঘর বা কোনও  অদ্ভুত অভ্যাসটা শুরুতেই দেখুক না কেন—এমনটাই ভাবছেন অনেকে। এতে অন্তত মেকি সম্পর্কের পেছনে অযথা সময় ও মানসিক শক্তি নষ্ট হয় না।

তবে সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিদদের মতে, এই ট্রেন্ডের একটা সূক্ষ্ম দিকও রয়েছে যা গুলিয়ে ফেললে চলবে না। নিজের স্বভাবের আসল বা পাগলাটে দিকটা তুলে ধরা আর সম্পর্কের শুরুতেই নিজের জীবনের গভীর কোনও  মানসিক আঘাত বা ট্রমা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া—এই দুটোর মধ্যে একটা বড় তফাত আছে। প্রথমটি যেখানে সম্পর্ককে সহজ আর হালকা করে তোলে, দ্বিতীয়টি অনেক সময় অপরপক্ষের জন্য বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই নিজের খাঁটি রূপটা দেখানোর পাশাপাশি আবেগের সীমারেখাটা বজায় রাখাও জরুরি। শেষ পর্যন্ত, গবলিন্টিমেসি আমাদের এটাই মনে করিয়ে দেয় যে, নিখুঁত মুখোশের চেয়ে একটা নিখাদ, অগোছালো আর খাঁটি মানুষের সাথে জড়িয়ে থাকা অনেক বেশি স্বস্তির এবং দীর্ঘমেয়াদী।