কোথাও কোনও লাম্প ধরা পড়লে বা তাতে ব্যথা হলেই চিকিৎসকরা বায়োপসি করাতে বলেন। কখনও আবার কোনও অপারেশনের পর, ধরা যাক গলব্লাডার, বা অন্য কিছুর অপারেশন হলে সেটাকেও বায়োপসিতে পাঠানো হয়। কিন্তু বায়োপসি শব্দটা শুনলেই অধিকাংশ মানুষের বুকে ভয় জাঁকিয়ে বসে। উত্তর পেয়ে ভয় মুক্ত হওয়ার বদলে, ভয় পান। কারও কারও তো আবার বদ্ধমূল ধারণা থাকে যে বায়োপসি করলে নাকি ক্যান্সার আরও দ্রুত গতিতে ছড়ায়। এটা কি সঠিক? 

বিগত কয়েক দশক ধরেই ভারতে এই ভাবনাটা কোনও ভাবে যেন গেঁথে বসে আছে, যে বায়োপসি করলেই নাকি ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়বে! আর সেই ভয়ে অনেকেই ডাক্তারের বলার পরও বায়োপসি করাতে চান না। অথচ এই টেস্ট না করালে রুগীর কী হয়েছে, রোগটা হলে সেটা কতটা ছড়িয়েছে বোঝা যাবে না। ফলে সঠিক চিকিৎসাও হবে না। তখন বিপদ অবশ্যম্ভাবী, এবং হয়তো দ্রুত ঘটবে সেটা। আর শেষ পর্যন্ত যখন ক্যান্সার ধরা পড়ে, তখন ডাক্তারদের আর কিছুই করার থাকে না। কারণ রোগটা ততক্ষণে হুহু করে এমনই ছড়িয়ে যায় বিনা চিকিৎসায়। 

তবে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়োপসি করলে মোটেই ক্যান্সার দ্রুত ছড়ায় না। বরং এটি নিরাপদ এবং ক্যান্সার হয়েছে কিনা সেটা জানার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ফলে এই টেস্ট করলে ক্যান্সার ছড়াবে না, কিন্তু না করলে অবশ্যই ছড়াবে। 

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির তরফেও জানানো হয়েছে বায়োপসির মাধ্যমে একমাত্র নির্ভুল ভাবে ক্যান্সার হয়েছে কিনা সেটা জানা যায়। আর এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যেখানে দেখা গিয়েছে যে বায়োপসি করার কারণে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। বায়োপসি করা হয় নিডিল ট্র্যাক্ট সিডিংয়ের মাধ্যমে। অনেকে এই সিডিংকে স্প্রেডিং-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। ভাবে সেই লাম্প থেকে সূচের মাধ্যমে কোষ নিয়ে সেটা শরীর থেকে বের করার সময়ই নাকি বাকি দেহে ছড়িয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু ঘটে না। 

বায়োপসি থেকে জানা যায় শরীরে থাকা সেই লাম্প ক্যান্সারাস নাকি নয়। যদি ক্যান্সারাস হয়, তাহলে কোন ধরনের ক্যান্সার বা কোন স্টেজে আছে। কত দ্রুত গতিতে রোগটা ছড়াচ্ছে, ওষুধ কাজ করবে কিনা, কোন চিকিৎসা করা উচিত, সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেয় এই টেস্ট। 

কিন্তু কেন এমন একটা ধারণা তৈরি হল যে বায়োপসি করলেই ক্যান্সার ছড়ায়? আসলে ভারতে বায়োপসি করানোর পরপর টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া যায় না। সেটা হাতে পেতে অন্তত ২-৩ সপ্তাহ লেগেই যায়। সেই সময় রোগটা কিছুটা হলেও ছড়ায়। লাম্প আগের তুলনায় বড় হয়। সেই কারণেই এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।