গরমকালে আম, কাঁঠালের সঙ্গে বাজারে দেখা মেলে কালো রঙের ছোট্ট একটি ফল। যা হল জামুন বা কালোজাম। এই ফলের জন্য অনেকেই সারা বছর অপেক্ষা করেন। কারণ এটি বছরের মাত্র ১-২ মাসই বাজারে পাওয়া যায়। 


স্বাদে টক-মিষ্টি এই ফল শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, স্বাস্থ্যেও দারুণ উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, জামে এমন অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


জামে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফাইবার এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। তাই নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে জামুন খেলে শরীর নানা উপকার পেতে পারে।


জামের সবচেয়ে বড় গুণ হল এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি দ্রুত ব্লাড সুগার বাড়ায় না। এছাড়া এর বীজেও এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে মনে করা হয়। 


জামে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি হৃদযন্ত্রও সুস্থ থাকে।


জামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। এতে লিভারের ওপর চাপ কমে এবং লিভার ভালভাবে কাজ করতে পারে। যাঁদের হজমের সমস্যা থাকে, তাঁদের জন্যও এই ফল উপকারী।


জামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। তাই এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং হজম ভাল রাখতে সাহায্য করে। গ্যাস, অম্বল বা বদহজমের সমস্যাও কিছুটা কমতে পারে।


ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর হওয়ায় জামুন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ঋতু পরিবর্তনের সময় সর্দি-কাশি বা সংক্রমণের ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে।


জামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বককে ফ্রি-র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এতে ত্বক উজ্জ্বল থাকে এবং বয়সের ছাপও কিছুটা দেরিতে পড়ে।


জামে ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি। তাই এটি খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।


জাম ভাল করে ধুয়ে সরাসরি খেতে পারেন। চাইলে ফলের স্যালাড, স্মুদি বা জুসও বানিয়ে খাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে না খাওয়াই ভাল।


কারা সতর্ক থাকবেন? যাঁদের ডায়াবেটিস রয়েছে এবং নিয়মিত ওষুধ খান, তাঁরা বেশি পরিমাণে জাম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। খালি পেটে অতিরিক্ত জাম খেলে কারও কারও অম্বল বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে।